ঢাকা কলেজে কমিটির দাবি : ছাত্রলীগ সভাপতির গাড়ি আটকে দিল বিক্ষুব্ধ নেতারা

আগের সংবাদ

প্রতিটি ব্যাংকেই টাকা আছে > ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী : বিএনপি-জামায়াত যেন ক্ষমতায় না আসতে পারে

পরের সংবাদ

একগুচ্ছ দাবি নিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
আপডেট: ডিসেম্বর ৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ প্রতিবেদক : বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষা ও মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়াসহ প্রধান বিচারপতির কাছে এক গুচ্ছ দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। গতকাল সোমবার বিকালে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের (বিজেএএফ) নেতারা প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সঙ্গে দেখা করে অনেকগুলো লিখিত দাবি পেশ করেন। সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিজেএএফ সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল ও ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রধান বিচারপতির দপ্তরে প্রবেশ করেন। এ সময় বিপুল সংখ্যক বিএনপিপন্থী আইনজীবী বাইরে অবস্থান করেন। লিখিত আবেদনের মাধ্যমে বিজেএএফ বিচার বিভাগের মর্যাদার উপর আসা দেশি-বিদেশি ধারাবাহিক অবমাননাকর প্রভাবের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের লিখিত আবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালে শুরু হওয়া ক্ষমতার সুস্পষ্ট নতুন রূপের অবাস্তব সংস্কার, বিচার বিভাগের উপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ-আধিপত্য এবং উচ্চ আদালত ও অধস্তন আদালতে বিচারক নিয়োগে ক্রমবর্ধমান রাজনীতিকরণ বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিকে আরো খর্ব করেছে। এর ফলে বিচার বিভাগকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ এবং দক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। পাশাপাশি এর প্রতি জনগণের আস্থা কমে গেছে।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সারাদেশে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারা নিপীড়ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সারাদেশে প্রায় ৪০ লাখ বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীকে প্রায় ১ লাখ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ধরনের রাজনৈতিক মামলাগুলো ‘রাজনৈতিক নিপীড়নের’ উৎকৃষ্ট উদাহরণ ছাড়া আর কিছুই নয়। রাজনৈতিক বিরোধীদের নিপীড়ন ও বিচার করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্বারা বিচার ব্যবস্থার এই ধরনের উদ্বেগজনক ব্যবহার, সংবিধানের মৌলিক অধিকারের একটি পরিহাসমূলক লঙ্ঘন এবং বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি, পবিত্রতা ও মর্যাদার ভূলণ্ঠন। সরকার চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করার জন্য বিচার ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করছে, যার ফলে বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা কমে যাচ্ছে।
আবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দ্বারা প্রকাশিত তথ্যের আলোকে প্রধান বিচারপতির কাছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের দাবিগুলো হলো- ১. বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের উপলব্ধি, বিশ্বাস এবং আস্থা পুনরুদ্ধারের জন্য যেন এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়, যাতে প্রমাণিত হয় বিচার বিভাগ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত। ২. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ সালের অধীনে মামলাসহ রাজনৈতিক মামলাগুলো এমনভাবে পরিচালনা/বিচার করা, যাতে বিচার বিভাগের উপর জনগণের বিশ্বাস এবং আস্থা ফিরে আসে। ৩. আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো আমলে নিয়ে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি, মর্যাদা এবং সম্ভ্রম পুনরুদ্ধারের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়