গ্যালারি কায়া : বাংলাদেশ-ভারতের শিল্পীদের নিয়ে ‘এপিক ১৯৭১’

আগের সংবাদ

স্বস্তির ভোটে আইভীর হ্যাটট্রিক : সব শঙ্কা উড়িয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট, শামীম ওসমানের কেন্দ্রে হেরেছে নৌকা

পরের সংবাদ

সড়ক মেরামত : গাড়ির জ্বালানি বিক্রির ওপর কর বসানোর প্রস্তাব

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : বাংলাদেশের সড়ক পথে মোটরযানে যত জ্বালানি ব্যবহৃত হয়, সেসব জ্বালানির মূল্য থেকে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল বাবদ প্রতি লিটার বা ইউনিটে এক টাকা করে আদায় করার প্রস্তাব করেছে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল বোর্ড বিধিমালার যে খসড়া তৈরি করেছে, সেখানে এই প্রস্তাব রয়েছে। খসড়াটি এখন ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কার্যক্রম চলছে। এই বছরের শেষ নাগাদ নতুন এই বিধিমালা কার্যকর করতে চায় বাংলাদেশের সরকার। খবর বিবিসি বাংলা।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল মালেক জানিয়েছেন, খসড়া প্রস্তাবটি আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি সেটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এটি অনুমোদিত হলে বাংলাদেশের সড়ক ও মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ এই তহবিলের আওতায় আনা হবে।
প্রস্তাবিত বিধিমালায় সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের খরচ সড়ক ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে আদায় করা কর, জরিমানা, টোল এবং দপ্তরের সম্পদ ব্যবহারের বিনিময় থেকে সংগ্রহ করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং পরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. শামসুল হক বলেন, ‘উন্নয়নের একটা অংশ হলো সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ। আমাদের দেশে উন্নয়নের অংশ হিসেবে অনেক রাস্তাঘাট তৈরি হয়েছে, হচ্ছে। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কিছুদিন পরেই সেগুলো নষ্ট হয়ে যায়।’
তিনি বলেন, রক্ষণাবেক্ষণ করতে যদি দেরি হয়ে যায়, তাহলে ভোগান্তির পাশাপাশি সেটা ঠিক করতে খরচ অনেক বেশি হয়ে যায়। আমাদের দেশে এটা একটা সমস্যা, কারণ অনেক সড়ক ঠিক সময়ে মেরামত করা যায় না। হয়তো রাস্তা তৈরির তহবিল আছে, মেরামতের তহবিল নেই। ফলে এরকম একটি তহবিল অনেক আগে থেকেই দরকার ছিল।
তিনি জানান, ২০০২ সালে প্রথম এই ধরনের তহবিল গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু কোন মন্ত্রণালয়ের আওতায় বোর্ড থাকবে, এ নিয়ে দ্ব›েদ্বর কারণে শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের সড়ক ও মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, দেশটিতে মোট তালিকাভুক্ত মোটরযান রয়েছে ৪৭ লাখ ৮০ হাজার।
জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব যানে প্রতিদিন ৫২ লাখ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল আর ১৩ কোটি ৯০ লাখ ঘনমিটার সিএনজি ব্যবহৃত হয়। লিটার বা ইউনিট প্রতি এক টাকা হিসাবে প্রতিদিন আয় হবে প্রায় সাড়ে ১৪ কোটি টাকা, বছরে প্রায় পাঁচ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা।
কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, বিশ্বের অনেক দেশে সড়ক বা মহাসড়ক রক্ষণাবেক্ষণে এভাবে জ্বালানির মূল্য থেকে খরচ সংগ্রহ করা হয়। সেসব উদাহরণ দেখেই কর্মকর্তারা বাংলাদেশে এরকম একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছেন।
বিধিমালা অনুসারে, বিভিন্ন খাত থেকে যে অর্থ সংগ্রহ করা হবে, তা সড়ক ও মহাসড়ক মেরামতের বাইরে কর্মীদের বেতন-ভাতা দেয়া এবং অফিস খরচের জন্যও ব্যয় করা হবে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ মো. শামসুল হক বলছেন, রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতে সরকারি যে বরাদ্দ থাকে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে নিজস্ব উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের তহবিল থাকলে তা সবার জন্যই ভালো। তবে আমি পরামর্শ দেব, শুরুতেই যেন জনগণের ওপর চাপ তৈরি করা না হয়। প্রথমে অন্তত তহবিলটি যাত্রা শুরু করুক, টোল, সারচার্জ, বিআরটিএর লাইসেন্স, রেজিস্ট্রেশন ইত্যাদির টাকা দিয়ে কাজ শুরু করুক। তারপর জনগণ যদি সুফল দেখতে পায়, তখন ভালো সড়কের জন্য বাড়তি অর্থ দিতেও আপত্তি করবে না।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়