সিদ্ধান্ত পরিবর্তন : শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলবে গণপরিবহন

আগের সংবাদ

উৎসব-উৎকণ্ঠার ভোট আজ : সবার দৃষ্টি নারায়ণগঞ্জে > আইভী-তৈমূরের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা শামীম ওসমান

পরের সংবাদ

ইআইএর পূর্বাভাস : চলতি বছর চাহিদা ছাড়াবে জ্বালানি তেল সরবরাহ

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জানুয়ারি ১৫, ২০২২ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

কাগজ ডেস্ক : চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারদর গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় ৫ ডলার বেড়েছে বলে জানিয়েছে এনার্জি ইনফরমেশন এডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ)। তবে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যেই জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ চাহিদাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে বছরের বাকি সময়গুলোয় পণ্যটির দাম অব্যাহতভাবে কমতে পারে।
ইআইএর প্রত্যাশা, ২০২২ সালে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা গত বছরের তুলনায় দৈনিক ৩৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল করে বাড়বে, যা গত মাসে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় দৈনিক ৭০ হাজার ব্যারেল বেশি। সংস্থাটি বলছে, এর মধ্য দিয়ে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা মহামারীপূর্ব পর্যায়কে ছাড়িয়ে যাবে। তবে পণ্যটির উত্তোলনও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এর মধ্য দিয়ে সরবরাহ সংকটের অবসান ঘটতে পারে। ইআইএর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক স্টিভ নেলি বলেন, চলতি বছর লক্ষণীয় মাত্রায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছি আমরা। পণ্যটির মজুত আবারো পরিপূর্ণ হতে শুরু করেছে। এটি গ্যাসোলিন, জেট জ্বালানিসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের দাম স্বল্পমেয়াদে কমিয়ে আনতে সহায়তা করছে।
ইআইএর বিশ্লেষণ বলছে, চলতি বছর বাড়লেও আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা আবারো কমে যেতে পারে। এ সময় পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ১৭ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে কমতে পারে।
ইআইএর সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি মাসের শুরুতেই অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্য গত বছরের ডিসেম্বরের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ৪ ডলার ৯০ সেন্ট করে বেড়েছে।
মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) ব্যারেলপ্রতি মূল্য স্থির হয় ৭১ ডলার ৩২ সেন্টে। আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের বাজারদর ব্যারেলপ্রতি ৭৪ ডলার ৯৫ সেন্টে পৌঁছে। তবে আগামী বছর ডব্লিউটিআইয়ের ব্যারেলপ্রতি গড় দাম ৬৩ ডলার ৫০ সেন্ট এবং ব্রেন্টের দাম ৬৭ ডলার ৫০ সেন্টে নামতে পারে বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
ইআইএর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্রত্যাশার চেয়েও বেশি চাহিদা মেটাতে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত সক্ষমতা গড়ে তুলবে। এরই মধ্যে জোটভুক্ত দেশগুলো প্রতি মাসে কোটা অনুযায়ী তাদের উত্তোলন বাড়াচ্ছে। প্রাক্কলিত হিসাবমতে, চলতি ও আগামী বছর ওপেকের উদ্বৃত্ত সক্ষমতা দৈনিক ৩৯ লাখ ব্যারেলে উন্নীত হতে পারে, যা ২০১০-১৯ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের উদ্বৃত্ত সক্ষমতার চেয়ে দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেল বেশি।
এসএন্ডপি গেøাবাল প্ল্যাটসের বিশ্লেষণ বলছে, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজারে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত সরবরাহ দেখা দিতে পারে।
তথ্য বলছে, করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন শনাক্ত হওয়ার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদায় ধস নামার উদ্বেগ দেখা দিয়েছিল। ২০২০ সালের মতো জ্বালানি তেলের বাজার বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলেও জানিয়েছিলেন বিশ্লেষকরা। তবে এসব আশঙ্কা উড়িয়ে দেয় জ্বালানি তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। জোটটি চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকের জন্য পণ্যটির বৈশ্বিক চাহিদা পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়