×

শেষের পাতা

সাবের হোসেন চৌধুরী : দুর্নীতি রুখতে প্রয়োজন সমন্বিত ইকো সিস্টেম

Icon

প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

সাবের হোসেন চৌধুরী : দুর্নীতি রুখতে প্রয়োজন সমন্বিত ইকো সিস্টেম
কাগজ প্রতিবেদক : ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেছেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে অনেক ভালো ভালো আইন রয়েছে। সরকারও জিরো টলারেন্স নীতিতে দৃশ্যমান কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু তবুও দুর্নীতি বন্ধ হচ্ছে না। কোনো ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভবও নয়। এর জন্য এক ধরনের ইকো সিস্টেমের প্রয়োজন। যেখানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, সুশীল সমাজ, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষসহ সর্বস্তরের জনগণকে যুক্ত হতে হবে। কেউ দুর্নীতি করলে জবাবদিহিতার আওতায় আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে প্রতিবাদ করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি ইউএনডিপির সহযোগিতায় বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের আয়োজনে ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্য’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, মতিঝিল মডেল স্কুল এন্ড কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এবং সাবের হোসেন চৌধুরীর কাছে দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানতে চান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি আবদুল্লা মোহাম্মদ শুকরানা। সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রে দুর্নীতি আছে। এটি সহজে নির্মূল করা সম্ভব নয়। তবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পর্যায়ে কাউকে দুর্নীতি করার সুযোগ করে দেয়ার মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতেই হাঁটছে এবং এটি দৃশ্যমান। কিন্তু কেউ দুর্নীতি করলে সরকার কি ব্যবস্থা নিচ্ছে সেটি পরবর্তী সময়ে সেভাবে প্রচার পাচ্ছে না। পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধে তথ্যপ্রযুক্তি বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি। বর্তমানে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে যথার্থভাবে গর্ব করতে পারছি। এই করোনাকালে এর সুফলও পেয়েছি। এই তথ্যপ্রযুক্তি কতটা দুর্নীতি রোধ করতে পারে বা পারবে সেটি আমাদের সম্ভাবনার জায়গা। এর মাধ্যমে কতটা সুফল আসবে তা সময় বলে দিবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, একই অনিয়ম বারবার ঘটে থাকে। এর মানে হচ্ছে সিস্টেমে কোথাও দুর্বলতা রয়েছে। আমাদের সেই জায়গাগুলোতে নজর দিতে হবে। এখানে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়, যে কোনো দুর্নীতির বিষয়ে যে কেউ অনুসন্ধান করতে পারে। সেটি সোশ্যাল মিডিয়াতে তুলে ধরার সুযোগ বর্তমানে রয়েছে। কিন্তু অবশ্যই সেটি গঠনমূলক ও সত্য হতে হবে। যদি সেটি হয়ে থাকে তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময়ের মতো অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব কিনা- রিশাদ নামে এক শিক্ষার্থীর এমন প্রশ্নের জবাবে ঢাকা-৯ আসনের সাংসদ বলেন, পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন আনা বলতে যেটি বলতে চাই, সেটি হচ্ছে, ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরতে হবে। যেমন- দুর্নীতির বিরুদ্ধে না বলে সুশাসনের পক্ষে, তামাকবিরোধী আন্দোলন না বলে সুস্বাস্থ্যের জন্য আন্দোলন, এমন বিষয়গুলোতে জোর দেয়া। পাশাপাশি সমাজের মধ্যে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে। সামাজিকভাবে কার কাছে দুর্নীতির প্রতিকার পাওয়া যাবে- খান মোহাম্মদ সাবাব নামে এক শিক্ষার্থীর এমন প্রশ্নের জবাবে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রথমে দেখতে হবে যে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বা কর্মচারী দুর্নীতি করছেন সেই প্রতিষ্ঠানে অভিযোগ দিলে কোনো প্রতিকার হবে কিনা। যদি সেটি না হয় তাহলে জনপ্রতিনিধিদের কাছে অভিযোগ করা যেতে পারে। এই জায়গাতে জনপ্রতিনিধিরাও একটা ভূমিকা রাখতে পারেন, অভিযোগকারীর পরিচয় গোপন রেখে ঘটনা তদন্ত করে দেখা যেতে পারে। পরে সেই তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে জনসাধারণ তথ্য অধিকার আইনে তথ্য নিয়ে সোচ্চার হতে পারে। তাহলে দুর্নীতি কিছুটা কমে আসবে। একই সঙ্গে প্রকল্প প্রণয়নে আরো সচেতন হতে হবে। উন্নয়নের নামে পরিবেশের যে ক্ষতি হচ্ছে, এর প্রভাব কী হবে- তানজিমুল হাসান নামে এক শিক্ষার্থীর করা এমন প্রশ্নের জবাবে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আগে উন্নয়ন ও পরিবেশকে মুখোমুখি ভাবা হতো। এখন চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব উন্নয়নও সম্ভব। কোনো প্রকল্প নেয়া হলে ভাবতে হবে এর মাধ্যমে কোনো বনভূমির ক্ষতি হচ্ছে কিনা। কেননা সংবিধানেই বলা হয়েছে, আমাদের জীববৈচিত্র্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করতে হবে। এজন্য উন্নয়নকে শুধু পরিসংখ্যানের আলোতে দেখলে হবে না, পরিবেশের দিক বিবেচনা করেও দেখতে হবে। অন্য এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে ঢাকা-৯ আসনের সাংসদ বলেন, বাংলাদেশের যে পরিমাণ জলবায়ুর ক্ষতি হচ্ছে সে পরিমাণ বৈদেশিক সহায়তা আসছে না। ২০১৫ সালে একবার বলা হয়েছিল ২০২০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলার করে দেয়া হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। প্রতি বছর যে পরিমাণ টাকা বাংলাদেশকে দেয়া হচ্ছে সেটি খুব সামান্য। সরকার তার চেয়ে অনেক বেশি টাকার কাজ করছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা হাতছাড়া বাংলাদেশের

সাফের হ্যাটট্রিক শিরোপা হাতছাড়া বাংলাদেশের

‘ব্রাজিল সেতু’ ও ‘আর্জেন্টিনা সেতু’ ঘিরে উৎসবের আমেজ

ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা ‘ব্রাজিল সেতু’ ও ‘আর্জেন্টিনা সেতু’ ঘিরে উৎসবের আমেজ

মহম্মদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি

মহম্মদপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে র‍্যালি

জীবিকার সন্ধানে বের হয়ে ঝরলো দুই প্রাণ

জীবিকার সন্ধানে বের হয়ে ঝরলো দুই প্রাণ

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App