ডিএমপি কমিশনার : স্মার্টকার্ড লাইসেন্সের প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ থাকলে মামলা নয়

আগের সংবাদ

ইইউ-চীন-যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের অঙ্গীকার > ৫০ বছরেই ‘কার্বন নিরপেক্ষ’ : এক হাজার কোটি ডলার তহবিলের নিশ্চয়তা, উষ্ণতা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা

পরের সংবাদ

টাঙ্গাইল পাসপোর্ট অফিস : দালাল ছাড়া মেলে না সেবা

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

সাইফুর রহমান ফারুক, টাঙ্গাইল থেকে : টাঙ্গাইলে পাসপোর্ট অফিসে দালালদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গ্রাহক ভোগান্তি আর দুর্নীতির অক্টোপাস জেঁকে বসেছে পাসপোর্ট অফিসে। অতিরিক্ত টাকা ছাড়া পাসপোর্ট করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। অফিসের সব কর্মকর্তা ও পিয়ন পর্যন্ত সবাই উৎকোচ গ্রহণের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এটা যেন ওপেন সিক্রেট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাসপোর্ট করে দেয়ার জন্য দালালরা ওঁৎ পেতে বসে থাকে। অফিসে দালাল ছাড়া কোনো পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ করা হয় না। এতে করে পাসপোর্ট করতে আসা সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে কতিপয় দালাল ও অফিসের কর্মচারীর কারণে। এই উৎকোচের আরেক নাম ‘চ্যানেল ফি’ আর এই চ্যানেল ফির নামে পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহকদের কাছ থেকে নেয়া হচ্ছে নির্ধারিত ফির দ্বিগুণ টাকা। এছাড়া অফিসের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দালালচক্রের হাতে পড়লে আর কথাই নেই।
ভুক্তভোগীরা জানান, সাধারণ পাসপোর্ট বাবদ খরচ হয় সরকারি ফি (ব্যাংক চালান) পাঁচ বছর মেয়াদি ছয় হাজার ৮২৫ টাকা ও ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট ফি আট হাজার ৫০ টাকা আর আবেদনপত্রের কাগজপত্র বাবদ খরচ প্রায় ২০০ টাকা। কিন্তু চ্যানেল ফি চক্রের মাধ্যমে সাধারণ পাসপোর্ট করতে আসা গ্রাহকদের গুনতে হয় প্রতিটি মেয়াদের জন্য অতিরিক্ত ৩-৪ হাজার টাকা। আদায়ের অতিরিক্ত টাকার শতকরা ৭০ ভাগ নেন অফিসের লোকজন, আর বাকি ৩০ ভাগ টাকা রাখা হয় দালালদের জন্য। গ্রাহকরা আরো জানান, আবেদন পত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ও সরকার নির্ধারিত ফি (ব্যাংক চালান) জমা দিয়ে চালানপত্র দেয়ার পরও অফিসের কর্মকর্তারা নানা ধরনের বায়বীয় ভুল চিহ্নিত ও তা সংশোধন করে অন্যদিন জমা দেয়ার কথা বলে চ্যানেল ফি না দেয়া গ্রাহকদের বিদায় করেন।
পাসপোর্টের আবেদন ফরমের পেছনে সত্যায়িত করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির বিবরণ উল্লেখ থাকলেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সত্যায়ন লাগবে বলেও আবেদনকারীকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। অফিস থেকে বেরিয়ে এলেই আবেদনকারীকে ঘিরে ধরে দালালচক্রের ৪-৫ সদস্য। তারা আবেদনকারীকে ‘চ্যানেল ফি না দিলে’ দিনের পর দিন ঘুরতে হবে বলে বুঝিয়ে থাকেন। দালালরা বুঝান, বারবার অফিসে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করার চেয়ে চ্যানেল ফি দেয়াই শ্রেয়। কিন্তু একই রকম কাগজপত্রের আবেদনপত্র দালাল মারফত জমা (চ্যানেল ফিসহ) দিলে সঙ্গে সঙ্গে ফিঙ্গার প্রিন্ট (আঙুলের ছাপ) সংগ্রহ করে দ্রুত পাসপোর্ট পাওয়ার সুবিধা করে দেয়া হয়।
জানা যায়, ২০০৭ সালে জেলা প্রশাসনের অধীনে প্রথম টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম শুরু করা হয়। একজন উপ-পরিচালকের অধীনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস পরিচালনা করেছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাসপোর্ট অফিসের কার্যক্রম চলাকালে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই সাধারণ মানুষ নির্দিষ্ট সময়ে পাসপোর্ট হাতে পেয়েছে। ২০১০ সালে টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি শহরের পলাশতলী এলাকার একটি বাসা ভাড়া নিয়ে পরিচালনা শুরু করা হয়। জোগান দেয়া হয় সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ লোকবল। সেই থেকে উৎকোচ গ্রহণের নগ্ন থাবায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পাসপোর্ট প্রত্যাশীরা। এখন বর্তমানে পাসপোর্ট অফিসটি স্থানান্তর করে নেয়া হয়েছে ডিস্ট্রিক জেলা পরিষদের পাশে। সেখানেও একই অবস্থা।
টাঙ্গাইল আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-পরিচালক বিপুল কুমার গোস্বামী জানান, পাসপোর্ট অফিসে বর্তমানে কোনো অতিরিক্ত ফি বা চ্যানেল ফি নেয়া হয় না। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় পাসপোর্ট অফিস দালালমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা প্রায় দেড়শ জন দালালের তালিকা করে জেলা প্রশাসন, র‌্যাব, পুলিশ প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়