ডিএমপি কমিশনার : স্মার্টকার্ড লাইসেন্সের প্রাপ্তি স্বীকার রসিদ থাকলে মামলা নয়

আগের সংবাদ

ইইউ-চীন-যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের অঙ্গীকার > ৫০ বছরেই ‘কার্বন নিরপেক্ষ’ : এক হাজার কোটি ডলার তহবিলের নিশ্চয়তা, উষ্ণতা বৃদ্ধি দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখা

পরের সংবাদ

ওবায়দুল কাদের : ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক নষ্টের জন্যই সা¤প্রদায়িক হামলা

প্রকাশিত: নভেম্বর ৩, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ৩, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

নোয়াখালী প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলনে, নির্বাচনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। দুটি কাজ তারা করতে চেয়েছে- এ অপকর্মের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের প্রতি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যে সমর্থন, সেই দুর্গে আঘাত হানতে চেয়েছে। অন্যটি হলো প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বিরাজমান সুসম্পর্কে ফাটল ধরানোর জন্য সুগভীর চক্রান্ত।
ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন আসছে। দেশকে অশান্ত করার জন্য এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। এই সাম্প্রদায়িক অপশক্তির নির্ভরযোগ্য শক্তি হচ্ছে বিএনপি। তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় মাঝে মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চক্রান্ত হয়। গতকাল মঙ্গলবার নোয়াখালীর চৌমুহনী পৌরসভা অডিটোরিয়ামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিম, যুগ্ম আহ্বায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন, শহিদ উল্যাহ খান সোহেল, নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ, বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. এ বি এম জাফর উল্যাহ, চৌমুহনী পৌরসভার মেয়র খালেদ সাইফুল্লাহ প্রমুখ চৌমুহনী থেকে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের নেতাদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে বলেন, ভোটের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে দরদ দেখালেও বিপদের সময় তাদের পাশে নেই কেন?
তিনি বলেন, ভোট এলে হিন্দুদের কাছে গিয়ে আমরা যারা মায়াকান্না করি, দরদ দেখাই তাদের বিপদের সময় আমরা পাশে দাঁড়াতে পারিনি কেন? এ প্রশ্ন আপনাদের প্রত্যেকের বিবেকের কাছে আমি রেখে গেলাম। চৌমুহনীতে হিন্দুদের ওপর হামলার সময় সেখানকার স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল কিনা এমন প্রশ্নও তুলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের এত বড় সংগঠন, এত কর্মী। কুমিল্লার ঘটনার পরদিন চৌমুহনীর ঘটনা ঘটেছে। কঠোরভাবে সতর্কতা অবলম্বন করলে এ রকম তাণ্ডব চৌমুহনীতে তারা কীভাবে করে গেল? সবকিছুতে প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে থাকা ঠিক না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হামলায় প্রাণ হারান প্রান্ত চন্দ্র দাস নামে এক যুবক, আতঙ্কে হৃদরোগে যতন সাহা নামে আরেকজনের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে যতনের পরিবারের অভিযোগ, তিনিও হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।
এতগুলো মণ্ডপ চৌমুহনীতে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিল- আপনারা কী নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন? একটা প্রতিরোধও তো হলো না, এটা নোয়াখালীর সন্তান হিসেবে আমাকে দুঃখ দিয়েছে। আমি নিজে লজ্জা পেয়েছি। কী জবাব দেব আজকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছ।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা সরকার মুখে নয় অন্তরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। শেখ হাসিনা আপনাদের আপনজন। এ ঘটনায় সরকার আপনাদের সঙ্গে আছে, এ কথা আপনাদের আশ্বস্ত করছি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়