নানা আয়োজনে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

আগের সংবাদ

লো স্কোরিংয়ের রোমাঞ্চকর ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার জয়

পরের সংবাদ

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সফল পাঁচ অধিনায়ক : তাইফ রহমান রাফি

প্রকাশিত: অক্টোবর ২৩, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ আপডেট: অক্টোবর ২৩, ২০২১ , ১২:০০ পূর্বাহ্ণ

সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সপ্তম আসর শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের নতুন আসর আসার সঙ্গে সঙ্গে এখন আলোচনা চলছে কোন দেশ শিরোপা জয় করবে। আগের ৬টি আসরে ৫টি দেশ বিশ্বকাপ জয় করেছে। দেশগুলো হলো ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দুবার শিরোপা জয় করেছে। ক্যারিবিয়ানদের দুই বিশ্বকাপেই অধিনায়ক ছিলেন ড্যারেন স্যামি। আর দুই শিরোপা জয় করে এখন তিনি বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল অধিনায়ক। বাকি চার দেশের যারা শিরোপা জিতিয়েছেন তাদের নামও স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসর হয় ২০০৭ সালে। সেবার ভারতকে নেতৃত্ব দেন মাহেন্দ্র সিং ধোনি। ২০০৯ সালে শিরোপা জেতে পাকিস্তান। তারা টি-টোয়েন্টির চ্যাম্পিয়ন হয় শহিদ আফ্রিদির নেতৃত্বে। ২০১০ সালে ইংল্যান্ড শিরোপা জেতে পল কলিংউডের নেতৃত্বে। এরপর ২০১২ সালে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানান ড্যারেন স্যামি। এরপর ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপ জেতে লাসিথ মালিঙ্গার নেতৃত্বে। তবে মালিঙ্গা বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেও তার অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জেতার একটি আলাদা মজার গল্প রয়েছে। বিশ্বকাপের এক আসর বাদেই ফের ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শিরোপা জিতিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায় আলাদাভাবে ঠাঁই করে নেন ড্যারেন স্যামি।
মাহেন্দ্র সিং ধোনি : ২০০৭ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভরাডুবি হয় ভারতের। সেবার রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বে ৫০ ওভারের বিশ্ব আসরের গ্রুপপর্ব থেকেই বিদায় নেয় ম্যান ইন ব্লুরা। এরপর রাহুলকে সরিয়ে অধিনায়কত্ব দেয়া হয় সে সময়কার তরুণ উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান মাহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে। তার নেতৃত্বে টি-টোয়েন্টি খেলতে গিয়েই বাজিমাত করে ভারত। মাহেন্দ্র সিং ধোনি সেই বিশ্বকাপ জিতে রাতারাতি দেশটির হিরোতে পরিণত হতে হয়। সেই বিশ্বকাপের পর ধোনিকেও আর কখনো পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। মাহেন্দ্র সিং ধোনি বিশ্বকাপে ভারতকে সব মিলিয়ে মোট ৩৩টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেন। এর মধ্যে জয় পেয়েছেন ২১টি ম্যাচে। হেরেছেন ১১টি ম্যাচে।
ইউনুস খান : ২০০৭ সালের প্রথম বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে খেলে পাকিস্তান। কিন্তু শেষ ওভারে তারা ম্যাচ হেরে যায়। তবে ২০০৯ সালের পরের আসরেই তারা শিরোপা জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে। সেবার পাকিস্তানকে শিরোপা জেতান দেশটির কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইউনুস খান। এর মাধ্যমে ১৯৯২ সালের পর প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো শিরোপা জেতে ম্যান ইন গ্রিনরা। ইউনুস খান পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে মাত্র ৮টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেন। আর ৮টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েই বাজিমাত করেন তিনি। ২০০৯ সালের বিশ্বকাপের মাঝপথে মূলত দায়িত্ব পান ইউনুস খান। মাঝপথে দায়িত্ব নিয়েই নিজের অধিনায়কত্বে সবচেয়ে সেরা সাফল্যটি পান। ইউনুস খান পাকিস্তানকে বিশ্বকাপে ৮টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়ে জয় পান ৫টি ম্যাচে। আর বাকি ৩টি ম্যাচে হারের স্বাদ পান। তবে বিশ্বকাপ জেতানো তাকে সবাই শুধু বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবেই দেখেন সবাই।
পল কলিংউড : ইংল্যান্ড ২০১০ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার আগে আরো বেশ কয়েকবার ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলে। কিন্তু তারা প্রত্যেকবারই রানার্সআপ হয়। ফলে ইংলিশরা ক্রিকেটে একটি শিরোপার আক্ষেপে পুড়ছিল। অবশেষ ২০১০ সালে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পল কলিংউডের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো শিরোপা জিতে নেয়। কলিংউড ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে মোট ১৭টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেন। এর মধ্যে ৮টি ম্যাচে জেতে ইংল্যান্ড। হারে বাকি ৮টি ম্যাচে। অন্য একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে যায়।
ড্যারেন স্যামি : টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরু থেকেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভালো খেলছিল। কিন্তু শিরোপার জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয় ২০১২ সালের চতুর্থ আসর পর্যন্ত। সেবার বিশ্বকাপ হয় শ্রীলঙ্কায়। আর সেই বিশ্বকাপে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকেই ফাইনালে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এরপর ২০১৬ সালে ভারতে স্যামির নেতৃত্বেই বিশ্বকাপে অংশ নেয় ক্যারিবিয়ানরা। সেবার বোর্ডের সঙ্গে দ্ব›দ্ব থাকায় নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এমনকি সে সময় নিজেদের বিশ্বকাপের জার্সিটিও তারা বানিয়েছিল ভারতে এসে। তবে সেবার স্যামির অসাধারণ নেতৃত্ব গুণে ও দলের মধ্যে থাকা ঐক্যের শক্তি নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শিরোপা জয় করে। সেবার ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ হারায় ইংল্যান্ডকে। ড্যারেন সামি সব মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৮টি ম্যাচে নেতৃত্ব দেন। এর মধ্যে জয় পান ১২টি ম্যাচে। হারেন ৫টি ম্যাচে। আর বাকি একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
লাসিথ মালিঙ্গা : ২০১২ সালে নিজ দেশে বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে হওয়া বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় শ্রীলঙ্কা। সেবার তারা ফাইনালে হারায় ভারতকে। আর লঙ্কানদের এই শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেন লাসিথ মালিঙ্গা। তবে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কাকে মাত্র একটি ম্যাচেই নেতৃত্ব দেন মালিঙ্গা। আর সেটি ফাইনালে। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কাকে পুরো আসরে নেতৃত্ব দেন দিনেশ চান্দিমাল।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, ভোরের কাগজ লাইভ এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়