×

রাজনীতি

আনন্দবাজারকে শেখ হাসিনা

‘মাথা উঁচু করে দ্রুত ফিরব’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম

‘মাথা উঁচু করে দ্রুত ফিরব’

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ‘দ্রুত’ এবং ‘মাথা উঁচু করে’ স্বদেশে ফিরবেন বলে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রধান নেতা শেখ হাসিনা ওই সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে আমার দলকে ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছে। কিন্তু থামানো যায়নি। সৃষ্টিকর্তা যেহেতু বাঁচিয়ে রেখেছেন, আমি দ্রুতই বাংলাদেশের মাটিতে ফিরব। মাথা উঁচু করে, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফেরানোর গর্ব নিয়েই ফিরব।’

তাঁর নেতৃত্বাধীন দলের ওপর কার্যক্রম চালানোর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে সপরিবার হত্যা করার পরেও তৎকালীন শাসক গোষ্ঠী আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করার সব চেষ্টা করে। কিন্তু উল্টো আওয়ামী লীগ শক্তিশালী হয়েই ফিরে এসেছে। যারা এই নিষেধাজ্ঞাকে স্থায়ী মনে করছেন তাদের ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখতে বলব। আমাদের কোটি কোটি সমর্থক এবং লাখো নেতা কর্মী দেশেই রয়েছেন। এখনও আমার ছাত্র লীগের ছেলেরাই অসহায় কৃষকদের পাশে রয়েছে। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার এবং সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকারের অপশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের নেতা-কর্মীরা সরব। আওয়ামী লীগ মানুষের আবেগে রয়েছে। ফলে আমাদের ফিরে আসা অনিবার্য, শুধু কিছু সময়ের ব্যাপার। আরও সংগঠিত হয়ে, শক্তিশালী হয়ে ফিরব। নীরবে তার প্রস্তুতি চলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিন্তু এটা তো ঘটনা যে আওয়ামী লীগের বহু নেতা-কর্মী এই মুহূর্তে দেশের বাইরে। কলকাতাতেও রয়েছেন দলের অনেক প্রাক্তন সাংসদ-মন্ত্রী। কেউ স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেননি। ভয়াবহ পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রাণে বাঁচতে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন। ছয়শোর বেশি নেতাকর্মীকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছে। দেড় লাখ নেতা কর্মীকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। কারাবন্দিদের ন্যূনতম আইনি অধিকার দেওয়া হচ্ছে না। এই অবস্থায় যাঁরা বাইরে রয়েছেন তারা বিশ্বের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনে বাংলাদেশের প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরছেন, সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন। দেশে ন্যূনতম গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসন তৈরি হলেই তাঁরা ফিরবেন। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও যাঁরা দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন, দল তাদের সর্বোচ্চ মূল্যায়ন করবে।’

শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের বিরুদ্ধে বিরোধীরা বরাবরই ভারতের তোষামদী করার অভিযোগ করেন- সেই বিবেচনায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের মূল্যায়ণ জানতে চাইলে আনন্দবাজারকে তিনি বলেন, ‘আমাদের বিরোধী শক্তিরা সর্বদাই এই অভিযোগ করেছে। আওয়ামী লীগ নাকি ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছে, দেশবিরোধী চুক্তি করেছে। কিন্তু খেয়াল করে দেখুন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অথবা বর্তমান বিএনপি সরকার এখনও পর্যন্ত একটিও দেশবিরোধী চুক্তি সামনে হাজির করতে পারেনি। তাদের মিথ্যাচার প্রমাণিত হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা অতীতের কিছু ঘটনা টেনে বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসেই আমরা গঙ্গা পানি চুক্তি করেছিলাম। ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক আদালতে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে ভারতের থেকে প্রায় ২০ হাজার বর্গ কিলোমিটার সমুদ্রসীমা বাংলাদেশের মানচিত্রে যোগ করেছিলাম। ২০১৫ সালে স্থলসীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা গিয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইনটি এই জ্বালানি সঙ্কটের সময় বাংলাদেশের 'লাইফ লাইন'। এর মধ্যে কোনটা অন্য দেশের তাঁবেদারি বিএনপি বলুক? এটা ঘটনা যে বিদেশনীতির ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছে।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে প্রটোকল অফিসারের মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রাম ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন থেকে প্রটোকল অফিসারের মরদেহ উদ্ধার

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া নোটিশ বিষয়ে সতর্কতা জারি

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামে ভুয়া নোটিশ বিষয়ে সতর্কতা জারি

বুমরাহকে ছাড়াই আফগান সিরিজের দল ঘোষণা ভারতের

বুমরাহকে ছাড়াই আফগান সিরিজের দল ঘোষণা ভারতের

ছোট্ট শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দুর্দান্ত ১৮ মিনিট

ছোট্ট শিশুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দুর্দান্ত ১৮ মিনিট

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App