কবি ওমর আলীর কবিতা জীবন ও দর্শন
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২০, ০৯:১২ পিএম
কবি ওমর আলী
‘এদেশে শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি’ খ্যাত ওমর আলী নিভৃত পল্লীর একজন গ্রামবাংলার কবি। নিসর্গজাত কবি। স্বভাব কবিও বলা যায়। কাব্য প্রতিভা তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। কবিতাই ছিল তার আরাধনা বা আরাধ্য দেবতা। মনোজগতের আরাধ্য বেদিতে কবিতাকে ঠাঁই দিয়েছিলেন। ষাটের দশকের এ কবি মূলত প্রেম ও রোমান্টিকতা, নিসর্গ ও সৌন্দর্য চেতনায় নিমগ্ন ছিলেন। তিনি রোমান্টিক প্রেমের ও সৌন্দর্যচেতনার কবি হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত। কাব্যের অনুষঙ্গ হিসেবে তিনি বেছে নিয়েছিলেন নারী, নিসর্গ ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে। তার কবিতায় উপমা ও উৎপ্রেক্ষা অসাধারণ ও বিচিত্রতায় পরিপূর্ণ যা শিল্প মাধুর্যে ভরপুর। আপন মনে শিল্পীর আঁচড়ে তিনি কবিতাগুলোকে শিল্পমানে রূপ দিয়ে পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন। তার প্রকাশিত গ্রন্থ ৪১টি। ৩৮টি কাব্যগ্রন্থ, একটি ছড়ার বই ও দু’টি উপন্যাস। তিনি ‘এদেশে শ্যামল রঙ রমণীর সুনাম শুনেছি’ কাব্যটি রচনার জন্য ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার এবং কাব্য সাহিত্যে অবদানের জন্য ২০১৭ সালে মরণোত্তর একুশে পদক লাভ করেন।
জন্ম পরিচয় ও শিক্ষা জীবন : কবি ওমর আলী’র জন্ম ২০ অক্টোবর, ১৯৩৯ চরশিবরামপুর গ্রামে মাতুলালয়ে। পাবনা জেলার সদর উপজেলায়। পিতা মো. উজির আলী, মাতা আহ্লাদী খাতুন। পিতার নিবাস ছিল পাশেই পদ্মা নদীর কাছাকাছি চরঘোষপুর গ্রাম। গ্রামবাংলার প্রকৃতি ও পদ্মার নৈসর্গিক পরিবেশ কবির মনকে সর্বদা ব্যাকুল করে রাখত। ২০১৫ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর কবি ৭৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। প্রথমে চরঘোষপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। পরে পাবনা শহরের গোপালচন্দ্র ইনস্টিটিউশনে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এখানে তিনি নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেন। এরপর ঢাকার আরমানিটোলার হাম্মাদিয়া হাইস্কুলে ভর্তি হন এবং এ স্কুল থেকে ১৯৫৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ১৯৬২ সালে উচ্চমাধ্যমিক, পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে বিএ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭০ সালে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আবার ১৯৭৫ সালে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন।
কর্মজীবনে তিনি একসময় ‘দৈনিক সংবাদ’ পত্রিকার বার্তা বিভাগে সাব-এডিটর পদে কর্মরত ছিলেন। এই চাকরি ছেড়ে দিয়ে পাবনা শহরের মহিমচন্দ্র জুবিলি হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন। এটাও ছেড়ে দিয়ে তিনি কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামাড়া কলেজে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। তারপরও তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে তিনি পাবনা শহরে অবস্থিত শহীদ বুলবুল কলেজে ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক পদে যোগদান করেন। এটি সরকারিকরণ হওয়ায় তিনি শেষ পর্যন্ত সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) পদে উন্নীত হন। ১৯৯৯ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।
তার কবিতায় মানব-মানবীর ভালোবাসার বর্ণনা শিল্প মাধুর্যে ফুটে উঠেছে। তিনি ভালোবাসার পূজারি হয়ে ভালোবাসাকে অবলীলায় কাব্যসাহিত্যে তুলে ধরেছেন। ভালোবাসাকে অমৃতের ন্যায় পান করেছেন। ভালোবাসা নিয়ে খেলেছেন। ভালোবাসার সুধায় তিনি নিমগ্ন থাকতেন। সর্বদা ভালোবাসার জয়গানে উন্মুখ ছিলেন। কবির মন ভালোবাসায় কাতর। তিনি অকাতরে ভালোবাসার জন্য প্রেমিক সেজে নারীর কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছেন। প্রিয়তম সেজে প্রিয়তমার কাছে শরীর, মন এবং সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে মধুর অনুভবে গ্রহণ করার জন্য আকুতি জানিয়েছেন। ভালোবাসা তো যেকোনো মানুষের কাছেই হৃদয়ের ধ্যান-জ্ঞান। কবি প্রেমিকাকে সবচেয়ে মধুর শব্দ যা একজন প্রেমিকের কাছে অতি প্রিয় শব্দ, সাধনা বা বাসনার শব্দ ‘প্রিয়তমা’ বলে হৃদয়ের সকল কিছু সমর্পণ করেছেন। তাইতো তিনি ‘সেই নারী তুমি’ কবিতায় অকপটে বলেন- তুমি সেই নারী, যাকে পৃথিবীর একটি পুরুষ ভালোবেসে ডেকেছিল, এসো, তুমি প্রিয়তমা হবে।’ বলেছিল, ‘তুমি মোর ভালোবাসা তুলে নাও, নারী, তোমার শরীরে, মনে, সমস্ত মধুর অনুভবে।
তিনি প্রেয়সীকে সাজাতে ভালোবাসেন। প্রেয়সীর গালে তিল থাকবে, সুকোমল ঠোঁট আর সুদীর্ঘ কালো চুল থাকবে আর কপালে টিপ পরবে। কপালে টিপ পড়লে প্রেয়সীকে আরও মিষ্টি ও সুন্দর দেখায়। সুদীর্ঘ কালো চুলে খোপা বাঁধবে। ফুল দিয়ে খোপা সাজাবে আর তখনই কবির সাধ জেগে উঠবে আলিঙ্গন করার। এই প্রেয়সী ছাড়া কবির সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার। আলোহীন পৃথিবী কবিকে নিরাশার অনলে দগ্ধ করবে। কবি প্রেমের অমর গীতি খুঁজে পাবে না। বিরহ-বেদনায় রাত্রি বিষাদে বিষাদে বিষের ন্যায় নীল হয়ে যাবে। এইসব সুখের দিন দুঃখে ভরে যাবে। সমস্ত আনন্দ, বেদনায় ভরে যাবে। তাই কবি ‘প্রেয়সী’ কবিতায় বলে ওঠেন- তোমার কপালে টিপ, তাই তুমি অত্যন্ত সুন্দরী। ...................................................... প্রিয়তমা, তোমার গালের তিলে, সুকোমল ঠোঁটে বারবার চুমো খাই। তোমার সুদীর্ঘ কালো চুলে বুলাই আমার হাত। ও-চুল সাজাও তুমি ফুলে। তোমার সুন্দর চোখ, সন্ধ্যার আকাশে তারা ফোটে। কবির হৃদয় ব্যাকুল কণ্ঠে কেঁদে ওঠেন। কেঁদে ওঠেন, পৃথিবীর নির্জনতা, নিস্তব্ধতা দেখে। আবার ব্যাকুল হয়ে পড়েন, কর্মের গতিকে অনুভব করে। তিনি বসে বসে ভাবেন, পৃথিবীতে এতো ফুল ফোটে, এতো পাখি ডাকে, এতো এতো ফল ধরে। কী কারণে! কীসের আশায়! নদীই বা বয়ে যায় কেন? এতো কিছু ভেবে ভেবে কবির মন স্তব্ধ হয়। কবির মনে ভাবনার সীমা পরিসীমা থাকে না। তখন একটাই উত্তর, অন্তরে ঘুরপাক খায়। সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডকে একজন নিয়ন্ত্রণ করেন। সে আর কেউ নন। মহান সৃষ্টিকর্তা। ফলের মতো, ফুলের মতো, প্রজাপতির মতো আমাদেরও শরীর নশ্বর। তাই কবি, ‘নশ্বর শরীর’ কবিতায় অন্তরের ভাবনার কথা নিমগ্নতায় আকুলভাবে তুলে ধরেছেন- অজস্র ফুলের শেষ কোথায় কি নিমিত্ত মৃত্তিকা ধরায় অশেষ ফল, কি উদ্দেশ্যে বয়ে যায় নদী আর উপলব্ধি করি, কেন বায়ু, রৌদ্রের ভ‚মিকা আমার সম্মুখে স্পষ্ট হয় কোন শস্যের ঔষধি।
কবি নারীর সুরভিতে নিমগ্নতায় মেতে ওঠেন। তিনি গেয়ে ওঠেন, বিজয়ের জয়গান। নারীর দৃঢ় আলিঙ্গনে, মধুর চুম্বনে কবির আনন্দ জাগে। কবির মন তৃপ্ত হয়। ঠোঁটের মধুমদে কবি ভেসে যান অপার আনন্দের মধুরসে। নারীর সুরভি কবিকে অলস করে তোলে, নিশ্বাস-প্রশ্বাস ভারী হয়, দেহে আলাদা শিহরণ জাগে। নিরিবিলি সুখময় রাতে নারীর আলিঙ্গন কবিকে এক আলাদা অনুভূতির জগতে নিয়ে যায়। কবির মনে কামনার আশা জাগে, বাসনা জাগে বুকের মাঝে স্বপ্নের ঢল নামে। রঙিন জগতের আশায় কবি জয়গানে মুখরিত হয়। তাইতো কবি ‘তোমার সুরভি’ কবিতায় বলে ওঠেন- তোমার শরীর থেকে মধুর সুরভি ভেসে আসে, আমার কাছেই তুমি রয়েছ দাঁড়িয়ে ঘন হয়ে, তোমার সুরভি আনে অলসতা আমার নিশ্বাসে, আমার শরীর কাঁপে শিহরণে, আনন্দের জয়ে। কবি ওমর আলী অকাতরে জন্মভূমির প্রতি ভালোবেসেছেন। মনে-প্রাণে তিনি জন্মভূমিকে মায়ের সাথে তুলনা করেছেন। এই অপার সৌন্দর্যের দেশকে তিনি ব্যাকুলভাবে ভালোবেসেছেন। তিনি ভালোবেসেছেন আকাশ, নদী, বালুচর। এ দেশের সবুজ-শ্যামল রূপ যা কবির মনকে আকুল করে। কবি টুনটুনি, দোয়েল পাখি দেখে অবাক হয়। তিনি মনটাকে উজার করে দেখেন আর ভাবেন, আমন ধানের খেতে হাঁসগুলো কীভাবে যাওয়া আসা করে! কীভাবে তারা খেলে! কীভাবে সাঁতার কাটে! কীভাবে বাঁশের ঝাড়ে সন্ধ্যার সময় পাখিরা কিচির-মিচির করে। কী অপরূপ দৃশ্যে সন্ধ্যা নেমে আসে। এইভাবে জন্মভ‚মির প্রতি কবি অবাক বিস্ময়ে চোখ মেলে দেখেন। কবি উদাত্ত কণ্ঠে ‘জন্মভ‚মি’ কবিতায় বলে ওঠেন- ভালোবাসি জন্মভূমি তোমায় আমি ভালোবাসি মন ভুলানো আকাশ নদী এবং সবুজ রূপের রাশি। এতো তোমার পাখির কণ্ঠ এতো তোমার ফুলের সুবাস এতো তোমার গাছগাছালি চির সবুজ রয় বারো মাস।
হেমন্ত রিক্ততা ও শূন্যতার ঋতু। কিন্তু কবি ওমর আলীর কাছে এ ঋতুর মিঠে রোদ মন ভোলায় মনকে তৃপ্ত করে, আনন্দ বিলায়। কবি তার কোষাখালি গ্রামের হেমন্তের অপরূপ দৃশ্য নিখুঁতভাবে এঁকেছেন। হেমন্ত ঋতুতে কবি এ দেশের গ্রামের দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। মানব মনের সাধ যেন এদেশের অপরূপ রূপ দেখে মেটে না। উঠোনে চাঁদের খিলখিল হাসি, কুয়াশা হিমেল সুখ, পথের পাশে বেড়ে ওঠা ঘাসের দেওয়াল, নূপুর কোমল মুঠো মুঠো পাখি সবই কবির মনকে আনন্দ দান করে। কবি তাই ‘এই তো আমার দেশ’ কবিতায় বলেন-
হেমন্তের মিঠে রোদ মমতা ছড়িয়ে দেয় কোষাখালি গ্রামে পঁচিশ তিরিশ আর তারো বেশি বছর কেটে গেলেও যেন মেটে না মনের সাধ বাঁশ আম কাঁঠাল বাগানে সাঁঝ নামে পরিশেষে সাঁঝবেলায় জীবনের সবকিছু হিসেব-নিকেশ মিলাতে গিয়ে কবি জীবনকে তুষের আগুনের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি ফেলে আসা অনুষঙ্গগুলোকে আবার হেরে যাওয়া বা পরাজিত হওয়া বিষয়গুলোকে যোগ বিয়োগের খাতায় মেলাতে চেষ্টা করেন। এতে হেরে যান। কবি জীবনকে আঠা দিয়ে মুখ আটকানো খামের সাথে তুলনা করেছেন। সংগোপনে পোড়া, পিপাসার্ত নদী আবার পিছন ফিরে তাকানো কতো ছবির উদাহরণ এই জীবন। কবির হৃদয় তো আয়নার মতো স্বচ্ছ। তিনি তার অন্তর চোখ মেলে সবকিছু দেখতে পান যা সাধারণ মানুষ এগুলোকে দেখতে পায় না। কবি এই বিকেলবেলায় এসে ‘জীবন’ কবিতায় ঝাপসা চোখে কেঁদে ওঠেন আর বলে ওঠেন- জীবন মানেতো তুষ ভরা আস্তে আস্তে গভীর ভিতরে সংগোপনে পোড়া জীবন মানেতো তুমি পিপাসার্ত নদী যৌবনের ভারে ক্লান্ত শরীরে ও মনে ফিরে যেতে চাইবে আর সকরুণ তাকাবে পিছনে... কবি ওমর আলীকে দু-চারটি কথা দ্বারা মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। প্রকৃতপক্ষে কবি ওমর আলীর কবিতা আমাদের জীবনের নানা ঘাত-অভিঘাতের দ্বারা অভিসিক্ত। তার কবিতাগুলো পড়লে আমরা জীবনের নানা দিক দেখতে পাই। কোনো এক মনীষী বলেছেন, ‘জীবনতো একটা নিস্তরঙ্গ জলধারার মতো নয়, প্রতি পদে পদে শৃঙ্খলিত। গতিই তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।’ এই কথার সত্যতা কবি ওমর আলীর কবিতায় স্পষ্ট। তার কবিতার প্রতিটি পঙক্তি মানবজীবনের সাথে সম্পর্কযুক্ত। মানুষের জীবনে দুঃখ আছে, পশুবৃত্তি আছে, দাসত্ব আছে, ঘাত-অভিঘাত আছে, মিলনের আকাক্সক্ষা আছে, বিরহ আছে, প্রেম আছে, আদিম প্রবৃত্তি আছে, রতিক্রিয়া আছে। এসব কিছুই কবি ওমর আলীর কবিতায় স্থান পেয়েছে। এছাড়া আনন্দ আছে, দেশের প্রতি প্রেম আছে, দরদ আছে কবির মনের মণিকোঠায়।
জীবন মানেতো ভুলে যাওয়া ফেলে যাওয়া/ হেরে গিয়ে তবু খেলে যাওয়া/ করতলে শিশির ঝরিয়ে চলে যাওয়া- এটি কবি ওমর আলীর ‘জীবন’ কবিতার পঙক্তি। ছোট্ট পাখি উড়ার স্বপ্ন দেখে, নীড় খোঁজে, অনেক দূরে যেতে চায়। মানুষও তেমনি। তার সামনে অপার সম্ভাবনা। স্বপ্ন দেখে। তা বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে। কবি ওমর আলীও মানুষের জীবন দর্শন নিয়ে লিখেছেন, ঘেঁটে দেখেছেন, নেড়েচেড়ে দেখেছেন, দেখেছেন মানুষের জীবনপথের অলিগলি। সত্যের সন্ধান করেছেন। সৃষ্টিকে ভালোবেসেছেন। জীবনের রূপরসকে নন্দনতত্তে¡ প্রকাশ করেছেন। তাইতো তিনি কালোত্তীর্ণ জীবন দর্শনের কবি।
