রামিসা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার (৭) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেই ভেতর থেকে ফ্ল্যাটের দরজা খুলতে দেরি করেন তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই তিনি দরজা খোলেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ফ্ল্যাটের ভেতরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছিল। সোহেল যেন পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতেই দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ রাখা হয়। পরে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে গেলে স্বপ্না দরজা খোলেন। পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, তিনি হত্যাকাণ্ডে সহযোগীর ভূমিকা পালন করেছেন।
পুলিশের ধারণা, বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত নষ্ট এবং মরদেহ গোপনের উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো জানানো হয়, সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বাড়ি নাটোরের সিংড়া থানার নিমাকদমা চৌদ্দগ্রাম এলাকায়। নিহত শিশুর পরিবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থেকে এসে একই ভবনে বসবাস করছিল।
ঘটনার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে স্বপ্না আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে আটক করে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি এবং শিশুটির বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়েছে।
এর আগে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির জানান, ঘাতক সোহেল পাশের ফ্ল্যাটে থাকতেন। দুই ফ্ল্যাটের মাঝখানের ফাঁকা জায়গা থেকে শিশুটিকে টেনে নিজের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাথরুমে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) আসামিদের আদালতে হাজির করে সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড এবং স্বপ্না আক্তারকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ।
পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সোহেল রানার জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে দেওয়া আবেদনে উল্লেখ করেন, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান স্বপ্না আক্তার। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে তার জুতা আসামির কক্ষের সামনে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ দেখতে পান। শিশুটির মাথা একটি বড় বালতির ভেতরে রাখা ছিল।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না আক্তার জানান, তার স্বামী সোহেল রানা শিশুটিকে জোরপূর্বক নির্যাতনের পর হত্যা করেন। পরে মরদেহ বিকৃত করে খাটের নিচে রাখা হয় এবং মাথাটি আলাদা করে বালতিতে রাখা হয়। এরপর জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল রানা।
