কোরবানির পশুর চামড়ার নতুন দর ঘোষণা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৫:১৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এবার গত বছরের তুলনায় চামড়ার দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।
বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ে কোরবানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী জানান, চলতি বছর ঢাকার মধ্যে গরুর কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬২ থেকে ৬৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ঢাকার বাইরে গরুর চামড়ার দাম ধরা হয়েছে প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা।
এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়ার মূল্য প্রতি বর্গফুট ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রতিবছর প্রায় এক কোটি পশু কোরবানি দেওয়া হয়। এসব পশুর চামড়া স্থানীয় শিল্পে ব্যবহৃত হয়। প্রয়োজনে সীমিত সময়ের জন্য ওয়েটব্লু চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি। তবে এ বিষয়ে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পর চামড়া যেন নষ্ট না হয় সেজন্য সারাদেশে সরকারি অর্থায়নে বিনামূল্যে লবণ বিতরণ করা হবে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার লবণ কেনা হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)-এর মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এই লবণ সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।
গত বছর ঈদুল আজহায় ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত কাঁচা চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। একই সময়ে খাসির চামড়ার মূল্য ছিল ২২ থেকে ২৭ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম ছিল ২০ থেকে ২২ টাকা। তবে বিভিন্ন স্থানে সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া বিক্রি হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
গত কয়েক বছর ধরে কোরবানির চামড়ার বাজারে অস্থিরতা ও কারসাজির অভিযোগ রয়েছে। আগের বছর অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি। এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার বাজারে কারসাজি ঠেকাতে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ঈদুল আজহা পর্যন্ত।
