সাবেক এমপি হানিফ ও তার স্ত্রীর কর নথি জব্দের আদেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফ ও তার স্ত্রীর আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (১১ মে) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দু’টি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
দুদকের পক্ষে এই আবেদন দুটি করেন সংস্থার উপপরিচালক মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ভূঁইয়া। আদালতে দুদকের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম শুনানিতে অংশ নেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদন দুটি মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মাহবুবুল আলম হানিফের আবেদনে বলা হয়েছে, উক্ত আসামি সরকারি পদের অপব্যবহার করে ২৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ দখলে রেখেছেন। এছাড়া তার ১৮টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৮৬৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য মিলেছে, যার মধ্যে ৪৩৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা জমা এবং ৪৩৩ কোটি ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সরকারি চাকুরিজীবী হয়েও এমন অস্বাভাবিক লেনদেন ও আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনকে অপরাধমূলক অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
এছাড়া মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ-সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন ও আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি মাহবুবুল আলম হানিফের সব আয়কর নথি জব্দ করার নিমিত্তে আদালতের আদেশ প্রয়োজন।
ফৌজিয়া আলমের আবেদনে বলা হয়েছে, ‘আসামি ফৌজিয়া আলম (৫৩) এবং মো. মাহবুবুল আলম হানিফ (৬৬) একে অন্যের সহায়তায় পারস্পরিক যোগসাজশে সংগতিবিহীন ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিকানা অর্জন, দখলে রাখা এবং ১৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১৭ কোটি ৫ লাখ টাকা জমা ও ১৬ কোটি ৮ লাখ টাকা উত্তোলনসহ সর্বমোট ৩৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন।’
তিনি ও তার স্বামী মো. মাহবুবুল আলম হানিফ কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য থাকাকালীন মানিলন্ডারিংয়ের সম্পৃক্ত অপরাধ, দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ-সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন ও আড়াল করার উদ্দেশ্যে তা হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তর করার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামি ফৌজিয়ার সব আয়কর নথি জব্দ করার নিমিত্তে আদালতের আদেশ প্রয়োজন।
