বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৪ বোয়িং উড়োজাহাজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় বিনিয়োগ।
চুক্তি অনুযায়ী বিমানের বহরে যুক্ত হবে, ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার, ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।
সব মিলিয়ে চুক্তির সম্ভাব্য মূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের প্রতিনিধি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনসহ সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও এভিয়েশন খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বিমানের বহর আধুনিকায়ন, দীর্ঘপাল্লার রুট সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
ড্রিমলাইনার সিরিজের উড়োজাহাজগুলো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে সেবা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে। অন্যদিকে ৭৩৭-৮ ম্যাক্স উড়োজাহাজ স্বল্প ও মধ্যম দূরত্বের আঞ্চলিক রুটে কার্যক্রম শক্তিশালী করবে।
বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই উড়োজাহাজ যুক্ত হওয়ায় অপারেশনাল দক্ষতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ সহজ হবে। এতে বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগবি বলেন, এই চুক্তির মাধ্যমে বিমান এমন কয়েকটি এয়ারলাইন্সের তালিকায় যুক্ত হলো যারা ড্রিমলাইনার পরিবারের তিনটি সংস্করণ একসঙ্গে পরিচালনা করবে। নতুন উড়োজাহাজগুলো আগের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং যাত্রীদের জন্য আরও আরামদায়ক হবে।
বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন জানান, বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্য হলো যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বাড়ানো, পুরোনো উড়োজাহাজ প্রতিস্থাপন, নতুন রুট চালু এবং সংস্থার লাভজনকতা বৃদ্ধি। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩৪-৩৫ সালের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ে সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সময়মতো চুক্তি না হলে উড়োজাহাজ সরবরাহ সূচি ও মূল্য অনিশ্চিত হয়ে পড়ত।
বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দেশের মোট যাত্রীর ২৫ শতাংশের কম এবং কার্গোর ১০ শতাংশেরও কম বহন করে। বহর সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি বদলানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে প্রবাসী কর্মী পরিবহন, হজ ফ্লাইট পরিচালনা, রপ্তানি পণ্যের কার্গো পরিবহন এবং আন্তর্জাতিক রুটে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর প্রস্তুতির মধ্যেই এই চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তৃতীয় টার্মিনাল ও আধুনিক বহর মিলিয়ে দেশ আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে অবস্থান শক্ত করার সুযোগ পাবে।
প্রসঙ্গত, এই উড়োজাহাজ ক্রয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বোয়িং ও এয়ারবাসের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। শেষ পর্যন্ত বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ায় সেই প্রতিযোগিতার ইতি ঘটল।
