২৫ কার্যদিবসে ৯৪ বিল পাস, শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। ২৫ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে মোট ৯৪টি বিল পাস হয়েছে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে, ৭টি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর প্রায় ৪০ ঘণ্টা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ২৮০ জন সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অধিবেশন শেষে সমাপনী ভাষণে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। পরে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করে তিনি অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। এর আগে ১২ মার্চের রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়।
স্পিকার বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয় ১২ মার্চ। দীর্ঘ ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত এই জাতীয় নির্বাচনের পর গঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশন বিশেষ গুরুত্ব বহন করেছে। তিনি সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশের প্রশংসা করেন।
তিনি আরও বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্পিকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ অধিবেশনে, মোট ৯৪টি বিল পাস হয়েছে, ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপিত হয়েছে, ৭টি কমিটি গঠন করা হয়েছে (৫টি স্থায়ী ও ২টি বিশেষ কমিটি), ২৮০ জন সংসদ সদস্য প্রায় ৪০ ঘণ্টা আলোচনায় অংশ নেন, ২২০ জন সদস্য প্রথমবার সংসদে নির্বাচিত হয়ে আসেন।
কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের নোটিশের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়। ৬২ বিধিতে ১৬টি নোটিশের মধ্যে ২টি গৃহীত হয় এবং ২টি নিয়ে আলোচনা হয়। ৬৮ বিধিতে ৯টির মধ্যে ১টি গৃহীত হয়। ৭১ বিধিতে ১,১৯৮টি নোটিশের মধ্যে ৪২টি গৃহীত হয় এবং ৩৮টি আলোচিত হয়। ৭১(ক) বিধিতে ২০৭ বার দুই মিনিট করে বক্তব্য দেওয়া হয়। ১৬৪ বিধিতে ১৪টি নোটিশের মধ্যে ১টি গৃহীত হয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয় এবং ২৬৬ বিধিতে একটি নোটিশের ভিত্তিতে বিশেষ কমিটি গঠিত হয়।
এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে ৯৩টি প্রশ্নের নোটিশ জমা পড়ে, যার মধ্যে ৩৫টির উত্তর দেওয়া হয়। মন্ত্রীদের জন্য জমা পড়ে ২,৫০৯টি প্রশ্ন, যার মধ্যে ১,৭৭৮টির উত্তর সংসদে দেওয়া হয়।
সমাপনী বক্তব্যে স্পিকার বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই চেতনাকে ধারণ করে কাজ করতে হবে এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে এগোতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের অগ্রাধিকার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে পরিবারভিত্তিক কার্ড ব্যবস্থা, কৃষক কার্ড, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করা, খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থা উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি।
এছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন স্পিকার।
