লিবিয়া থেকে আরও ১৭৪ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ধারাবাহিক উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরানো হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) ত্রিপোলি থেকে তাদের প্রত্যাবাসন করা হয়।
প্রত্যাবাসিত এসব নাগরিক ত্রিপোলি ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়ার পর স্বেচ্ছায় দেশে ফেরেন। তাদের মধ্যে একজন গুরুতর অসুস্থসহ মোট ২৭ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
তারা লিবিয়ার বুরাক এয়ারের ইউজেড ২২২ ফ্লাইটে করে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
প্রত্যাবাসনের আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ দূতাবাস প্রাঙ্গণে তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিদায় জানান। এ সময় দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) প্রকৌশলী মো. আমিনুর রহমান এবং প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসিতদের উদ্দেশে প্রি-ডিপার্চার ব্রিফিং দেন। তিনি বলেন, লিবিয়া থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে আগ্রহীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে দূতাবাস সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, বহির্গমন ভিসা (খুরুজ নিহায়ী) প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় ফ্লাইটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দূতাবাস লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসিতদের পুনর্বাসন ও পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে এবং অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে তিনি তাদের উৎসাহিত করেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এছাড়া দালালচক্রের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার অভিবাসীদের দেশে ফিরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধ করা যায়।
একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি ও দুর্ভোগ সম্পর্কে নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা বাড়ানোরও আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালে আইওএমের সহায়তায় চারটি প্রত্যাবাসন ফ্লাইটে এখন পর্যন্ত মোট ৬৮৯ জন বাংলাদেশিকে নিরাপদে দেশে ফেরানো হয়েছে।
