বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরা বন্ধে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় বুধবার (১৫ এপ্রিল) থেকে সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
প্রতিবছরের মতো এবারও সরকার এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে উপকূলীয় জেলা ভোলা ও আশপাশের জেলাগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। দীর্ঘ এ সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকায় ভোলার সাত উপজেলার প্রায় ৬৫ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।
স্থানীয় জেলেরা জানান, সরকারের নির্দেশনা মেনে তারা ইতোমধ্যে ট্রলার ও জাল নিয়ে তীরে ফিরেছেন। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ ট্রলারের ইঞ্জিন সংস্কার করছেন।
ভোলা সদরের ইলিশা মৎস্য সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা মিয়া বলেন, নিষেধাজ্ঞার প্রথম সপ্তাহেই জেলেদের সরকারি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়। পাশাপাশি এনজিও ঋণের কিস্তি আদায় বন্ধ রাখারও দাবি জানান তিনি।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভোলার সাত উপজেলায় মোট ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন, যারা সাগরে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ৫৬১ জন জেলে রয়েছেন চরফ্যাশন উপজেলায়।
এ ছাড়া দৌলতখানে ১১ হাজার ৫৫০ জন, মনপুরায় ১০ হাজার ১৮৫ জন, লালমোহনে ৮ হাজার ৮০৪ জন, বোরহানউদ্দিনে ৭ হাজার ৬৫০ জন, তজুমুদ্দিনে ৪ হাজার ৫০৬ জন এবং ভোলা সদরে ৩ হাজার ৬৯৮ জন জেলে এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছেন।
নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সাগরে প্রশাসনের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, ভিনদেশি জেলেরা যেন বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন ও টাস্কফোর্স কমিটির পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মাছ ঘাটগুলোতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক নিবন্ধিত জেলেকে ৭৭ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেওয়া হবে।
মৎস্য সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো খাদ্য সহায়তা পৌঁছালে জেলেরা আগামী ৫৮ দিন পরিবার নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে কাটাতে পারবেন।
সূত্র: বাসস
