বীর শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধে জনতার ঢল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
ছবি : সংগৃহীত
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধায় জাতির বীর সন্তানদের স্মরণ করছেন সর্বস্তরের মানুষ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকেই স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদী ভরে ওঠে শ্রদ্ধার ফুলে।
বিভিন্ন সংগঠন, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় আরো বাড়তে থাকে, ফুলে ফুলে ঢেকে যায় পুরো বেদী।
সরেজমিনে দেখা যায়, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠনসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে দলে স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করছেন। সবার চোখেমুখে শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতার ছাপ।
মানিকগঞ্জের স্কুলশিক্ষক রবিউল আলম বলেন, তিনি প্রতিবছরই স্মৃতিসৌধে আসেন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ অর্জিত হয়েছে, তাদের কাছে জাতি চিরঋণী। তিনি জানান, সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেই এখানে তার এই আগমন।
আরো পড়ুন : স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
অন্যদিকে কলেজশিক্ষার্থী তানজিন আফরোজা বন্ধুদের সঙ্গে স্মৃতিসৌধে এসে জানান, শহীদদের জন্যই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। তাদের জীবনের বিনিময়ে পাওয়া এই দেশ নিয়ে তারা গর্বিত, তাই শ্রদ্ধা জানাতে এসেছেন।
এর আগে ভোর ৬টার দিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর এবং সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের স্মৃতি স্মরণ করেন।
১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ—একটি জাতির অস্তিত্বের লড়াই। শহর থেকে গ্রাম, কৃষক থেকে ছাত্র, নারী থেকে বৃদ্ধ—সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধে। গড়ে ওঠে মুক্তিবাহিনী।
পরবর্তী নয় মাস ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ আর রক্তক্ষয়ের এক মহাকাব্য। অসংখ্য মানুষ প্রাণ দেয়, লাখো নারী নির্যাতনের শিকার হয়, কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে সীমান্ত পাড়ি দেয়। তবু দমে যায়নি বাঙালি। বরং প্রতিটি আঘাত তাকে আরও দৃঢ় করেছে।
অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর আসে বিজয়ের সূর্য। পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। লাল-সবুজের পতাকা উড়ে ওঠে বিশ্বের মানচিত্রে।স্বাধীনতার এই ইতিহাস শুধু যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের গল্প। এটি সাহস, আত্মত্যাগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক।
আজ ২৬ মার্চ—মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৬তম বার্ষিকী আজ। বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের দিন এটি। এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা কোনো উপহার নয়; এটি অর্জিত, রক্তে লেখা। শহীদদের সেই আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়, তবে তাদের স্বপ্নের একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলাই হতে পারে আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।
