×

জাতীয়

২৬ মার্চ: স্বাধীনতার অমর গৌরবের দিন আজ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪৯ এএম

২৬ মার্চ: স্বাধীনতার অমর গৌরবের দিন আজ

ছবি : সংগৃহীত

পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতার মুখে দাঁড়িয়ে শুরু হয়েছিল প্রতিরোধের ইতিহাস। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি অর্জন করে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা। রক্ত, বেদনা ও অদম্য সাহসের বিনিময়ে অর্জিত এই দিনটি বাঙালির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি হয়ে আছে।

১৯৭১ সালের মার্চ—এক উত্তাল সময়, এক অগ্নিঝরা অধ্যায়। বাঙালির দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, শোষণ আর অধিকারহীনতার বিরুদ্ধে জমে ওঠা ক্ষোভ তখন বিস্ফোরণের অপেক্ষায়। সেই সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীনতার স্বপ্নে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছিল।

৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে তার ঐতিহাসিক ভাষণ যেন ছিল স্বাধীনতারই ঘোষণা। “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”—এই আহ্বান সারা দেশে ছড়িয়ে দেয় এক অদম্য চেতনা। মানুষ প্রস্তুত হতে থাকে চূড়ান্ত লড়াইয়ের জন্য।

২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামের নৃশংস অভিযান চালায়। নিরস্ত্র বাঙালির ওপর শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইপিআর ব্যারাক, রাজারবাগ পুলিশ লাইন—সব জায়গায় চলে নির্মম আক্রমণ। সেই রাতেই বাঙালির মনে স্পষ্ট হয়ে যায়—এ লড়াই আর অধিকার আদায়ের নয়, এ লড়াই অস্তিত্ব রক্ষার।

২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ—একটি জাতির অস্তিত্বের লড়াই। শহর থেকে গ্রাম, কৃষক থেকে ছাত্র, নারী থেকে বৃদ্ধ—সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ে যুদ্ধে। গড়ে ওঠে মুক্তিবাহিনী।

পরবর্তী নয় মাস ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ আর রক্তক্ষয়ের এক মহাকাব্য। অসংখ্য মানুষ প্রাণ দেয়, লাখো নারী নির্যাতনের শিকার হয়, কোটি মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে সীমান্ত পাড়ি দেয়। তবু দমে যায়নি বাঙালি। বরং প্রতিটি আঘাত তাকে আরও দৃঢ় করেছে।

অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর আসে বিজয়ের সূর্য। পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। লাল-সবুজের পতাকা উড়ে ওঠে বিশ্বের মানচিত্রে।স্বাধীনতার এই ইতিহাস শুধু যুদ্ধের কাহিনি নয়, এটি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের গল্প। এটি সাহস, আত্মত্যাগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতীক।

আজ ২৬ মার্চ—মহান স্বাধীনতা দিবস। এই দিন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, স্বাধীনতা কোনো উপহার নয়; এটি অর্জিত, রক্তে লেখা। শহীদদের সেই আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়, তবে তাদের স্বপ্নের একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলাই হতে পারে আমাদের প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ৫৬তম বার্ষিকী আজ। বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবের দিন এটি। যথাযোগ্য মর্যাদায় সারা দেশে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের শুভেচ্ছা

স্বাধীনতা দিবসে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের শুভেচ্ছা

স্মৃতিসৌধের পর জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

স্মৃতিসৌধের পর জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ভোরের কাগজের বিশেষ আয়োজন

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ভোরের কাগজের বিশেষ আয়োজন

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App