কনস্টেবল নিয়োগে অনিয়ম, তদন্তের নির্দেশ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বিগত এক দশকে পুলিশে ১ লাখ কনস্টেবল নিয়োগে বড় ধরনের দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়া এসব নিয়োগে যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও সুপারিশকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এমনকি কোটা জালিয়াতির মাধ্যমে এক জেলার প্রার্থীকে অন্য জেলায় নিয়োগ দেওয়ার মতো গুরুতর অনিয়মও ঘটেছে এই সময়ে।
অভিযোগ রয়েছে, বিগত সরকারের আমলে লিখিত পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পেলেও শুধুমাত্র নেতিবাচক 'গোয়েন্দা রিপোর্টের' অজুহাতে অনেক যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ বঞ্চিত করা হয়েছে। এমনকি অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে অনেক ক্ষেত্রে পৃথক কক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নিয়ে অযোগ্যদের উত্তীর্ণ দেখানোর মতো গুরুতর জালিয়াতিও ঘটেছে। এছাড়া, লিখিত পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া সত্ত্বেও আত্মীয়-স্বজনের রাজনৈতিক পরিচয় (বিরোধী দল সংশ্লিষ্টতা) পাওয়ায় মৌখিক পরীক্ষায় অনেককে পরিকল্পিতভাবে অকৃতকার্য করা হয়েছে। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিগত সময়ের এসব নিয়োগ জালিয়াতি ও অনিয়ম খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার (১৫ মার্চ) পুলিশ সদর দপ্তর এ সংক্রান্ত একটি কমিটি গঠন করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এডিশনাল ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং) মো. আবু হাসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় দেশের সকল জেলায় ৬৪টি কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিটি জেলার জেলা পুলিশ সুপারকে সভাপতি করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে। কমিটিকে ছয়টি বিষয়ে তদন্ত করতে বলা হয়েছে, ‘এর মধ্যে রয়েছে, ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে চাকরি প্রাপ্তি সংক্রান্ত; অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে কৌশলে পৃথক কক্ষে বিশেষ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত; প্রার্থী বা তার পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগযোগ্য বা নিয়োগ অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে কি না; লিখিত পরীক্ষার নম্বর ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের মধ্যে অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না; প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ইত্যাদি।’
কমিটিকে এসব বিষয় তদন্ত করে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিটি জেলার তদন্ত রিপোর্ট পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে।
