পাম্পে পাম্পে ‘তেল নেই’ পোস্টার, চালকদের তীব্র ভোগান্তি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২৬, ১১:২৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের বাজারে তীব্র অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকার কয়েকটি এবং গাজীপুরের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন এখন পুরোপুরি তেলশূন্য।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানী ও জেলা পর্যায়ের পাম্পগুলোতে ঝুলছে ‘পেট্রোল নেই’, ‘অকটেন নেই’ লেখা পোস্টার ও ব্যানার। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল, ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের চালকরা। এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে ঘুরেও তেল না পেয়ে অনেককেই রাস্তার পাশে বা বন্ধ পাম্পের সামনে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুর ও ঢাকার অন্তত ৮টি ফিলিং স্টেশন জনশূন্য। বিক্রয়কর্মীদের বদলে সেখানে কেবল নিরাপত্তাকর্মীরা উপস্থিত। তবে কিছু পাম্পে সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও সেখানে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
গাজীপুরের খাঁপাড়া রোডের এশিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক চালক বলেন, সকাল থেকে চারটি পাম্প ঘুরেছি, কোথাও এক লিটার তেলও নেই।আরেক চালক অভিযোগ করেন, এ অবস্থায় রাস্তায় গাড়ি চালানো সম্ভব নয়।
আরো পড়ুন : তেল কিনতে গিয়ে পিটুনিতে যুবক নিহত
সরকার মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে উদ্ভূত দীর্ঘমেয়াদি তেল সংকট মোকাবিলায় আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রেশনিং পদ্ধতি চালু করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী মোটরসাইকেল দিনে সর্বোচ্চ ২ লিটার, ব্যক্তিগত গাড়ি ১০ লিটার এবং এসইউভি বা মাইক্রোবাসের জন্য ২০–২৫ লিটার তেল বরাদ্দ থাকবে।
ডিজেল সরবরাহেও কঠোর রেশনিং কার্যকর করা হয়েছে। স্থানীয় রুটের বাস বা পিকআপ ভ্যান দৈনিক ৭০–৮০ লিটার, দূরপাল্লার বাস, ট্রাক বা কনটেইনার লরি ২০০–২২০ লিটার ডিজেল নিতে পারবে। সরকার জানিয়েছে, বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনের অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
