×

জাতীয়

জুলাই যোদ্ধা না হয়েও শহীদ তালিকায় সায়মন

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

জুলাই যোদ্ধা না হয়েও শহীদ তালিকায় সায়মন

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই শহীদ হিসেবে সরকারি গেজেটে আল হামীম সায়মনের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তার মৃত্যুর পর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ৮৪৪ জনের তালিকার ১০৭ নম্বরে তাকে স্থান দেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি তার মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে-তিনি কি সত্যিই আন্দোলনে শহীদ হয়েছিলেন, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল?

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হিসেবে গেজেটভুক্ত হয়েছেন আল হামীম সায়মন (তালিকা নং ১০৭)। ১৮ জুলাই তার মৃত্যুর পর মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের তালিকায় তার নাম ওঠে এবং তার পরিবার সরকারি অনুদান হিসেবে ৩০ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। তবে সম্প্রতি এক অনুসন্ধানে সায়মনের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর ও ভিন্নতর তথ্য সামনে এসেছে।

আন্দোলনের বিরোধী ও আওয়ামী রাজনীতিতে সক্রিয়তা

অনুসন্ধানে জানা যায়, আল হামীম সায়মন ছাত্র আন্দোলনের অংশীদার ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন আন্দোলনের ঘোর বিরোধী। তিনি স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন এবং 'শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ'-এর একটি ইউনিটের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার ফেসবুক প্রোফাইল এবং বন্ধুদের দেওয়া তথ্যমতে, মৃত্যুর দিন পর্যন্ত তিনি আন্দোলনবিরোধী অবস্থানে সোচ্চার ছিলেন।

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে বিতর্ক

সায়মনের পরিবারের দাবি—তিনি রামপুরা এলাকায় আন্দোলনে গিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পিটুনিতে নিহত হয়েছেন। তবে প্রত্যক্ষদর্শী এবং সায়মনের ঘনিষ্ঠ অনুসারী 'ছোট হামজার বয়ান অনুযায়ী চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ১৮ জুলাই বিকেলে সায়মন ও হামজা কাকরাইলের একটি বারে মদ্যপান করতে যান। সেখানে অতিরিক্ত মদ্যপানে সায়মন অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বমি করতে থাকেন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের লুকোচুরি

ঢাকা মেডিকেলের ডেথ সার্টিফিকেটে 'শারীরিক নির্যাতন' বা 'বুলেট ইনজুরি'র প্রাথমিক উল্লেখ থাকলেও, সুরতহাল প্রতিবেদনে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তা বিমল মধুর মতে, সায়মনের বাবা তখন দাবি করেছিলেন তার ছেলে স্ট্রোক করে মারা গেছে এবং ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ নিয়ে যান। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে সায়মনের বাবা রামপুরা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যেখানে তিনি দাবি করেন তার ছেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

আর্থিক সুবিধা ও পরিবারের অবস্থান

শহীদ তালিকায় নাম আসার পর সায়মনের পরিবার ৩০ লক্ষ টাকার সরকারি অনুদান পেয়েছে। প্রথমে টাকা পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে তারা তা স্বীকার করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, মদ্যপানে মৃত্যুর বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুবিধা নিতেই 'জুলাই শহীদ' হিসেবে সায়মনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা প্রতারণা বরদাশত করা হবে না। অন্যদিকে, চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় পার হলেও লাশের হাড় পরীক্ষার (Forensic Analysis) মাধ্যমে এখনো মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা সম্ভব

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

সাপের কামড়ে কিশোরের মৃত্যু

লিবিয়ায় আটক ৮৯৫ বাংলাদেশির অবস্থান শনাক্ত

লিবিয়ায় আটক ৮৯৫ বাংলাদেশির অবস্থান শনাক্ত

স্পেন ও ইতালি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকি ট্রাম্পের

স্পেন ও ইতালি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের হুমকি ট্রাম্পের

সবসময় পরিবর্তনের জন্য প্রাণ দিয়েছেন শ্রমিকরাই

মির্জা ফখরুল সবসময় পরিবর্তনের জন্য প্রাণ দিয়েছেন শ্রমিকরাই

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App