রাষ্ট্রপতি নির্বাচন : সংবিধান কী বলছে, কবে ভোট
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:২৩ এএম
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
নতুন সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের যাত্রা শুরুর পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন কবে এবং কীভাবে হতে পারে, এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
শেখ হাসিনা সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন মো. সাহাবুদ্দিন। গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর ছাত্রজনতার পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবি উঠলেও বিষয়টি বাস্তবায়িত হয়নি। শুরু থেকেই এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল বিএনপি। শেষ পর্যন্ত তাঁর কাছেই তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ নেয়।
রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকায় আইনগতভাবে তাঁর পদ শূন্য না হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই। সংবিধান বিশ্লেষকদের মতে, তিনি পদত্যাগ না করা বা অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কেউ রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারবেন না।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ কীভাবে শূন্য হবে তা সংবিধানেই নির্ধারিত রয়েছে। পদ শূন্য হওয়ার পরই নতুন সংসদ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করবে।
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার এ দায়িত্ব পালন করতে পারেন। পদত্যাগ, মেয়াদ শেষ হওয়া বা অভিশংসনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে।
২০২৪ সালের অক্টোবরে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। তবে গত ডিসেম্বর মাসে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর তিনি সরে যেতে চান। কারণ অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনি অপমানিত বোধ করছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের প্রশ্নটি সামনে আসতে পারে। সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন এবং নতুন স্পিকার দায়িত্ব নিলে রাষ্ট্রপতি চাইলে তাঁর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না।
আরো পড়ুন : প্রতিরক্ষা ও জনপ্রশাসনসহ ৫ দপ্তর সামলাবেন প্রধানমন্ত্রী
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া
সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য প্রার্থীর বয়স কমপক্ষে ৩৫ বছর হতে হবে এবং সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।
রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন নির্বাচন আয়োজন করে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নির্বাচনি কর্তা হিসেবে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে তফশিল ঘোষণা করেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষজনিত কারণে পদ শূন্য হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় দুইজন সংসদ সদস্যের প্রয়োজন হয়, একজন প্রস্তাবক এবং একজন সমর্থক। একাধিক প্রার্থী না থাকলে ভোটগ্রহণ ছাড়াই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
রাষ্ট্রপতি–প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা
বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত। তবে রাজনৈতিক সংকট বা নির্বাচনের সময় রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দিতে পারেন।
রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার প্রস্তাব এসেছে। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে রাষ্ট্রপতি নিজ এখতিয়ারে নিয়োগ দিতে পারবেন।
তবে সংবিধান সংশোধন ছাড়া এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন সম্ভব নয় বলে মনে করেন আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল। তাঁর মতে, এ প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ।
সংসদের প্রথম অধিবেশন কবে শুরু হবে তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। বিশ্লেষকদের ধারণা, অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
