প্রধান উপদেষ্টার বাণী
শঙ্কামুক্ত-বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শঙ্কামুক্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ’ বলে পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। সেই সঙ্গে এই ভোট যেন তরুণসহ সব ভোটারদের কাছে উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়- তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সবার বলেও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে ইউনূস বলেন, ‘এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়, শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়-তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
তিনি এ নির্বাচনকে ‘দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত’ জাতির জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছিল সে ‘আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত’ ও ‘প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবেও দাবি করেন।
জনগণের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি আশা করি, গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার হবেন।’
তিনি নির্বাচন উপলক্ষে দেশবাসীকে ‘আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন’ জানিয়ে বলেন, “এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হতে যাচ্ছে; এর জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সেরেছে নির্বাচন কমিশন। এবার ভোটে ৫০টি দল এবং স্বতন্ত্রসহ ২৯৯ আসনে প্রার্থী ২০২৮ জন। ৪২ হাজার ৬৫৯ কেন্দ্রে সশরীরে ভোটগ্রহণ হবে। আর ২৯৯টা কেন্দ্রে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। সব মিলিয়ে ৪২৯৫৮ কেন্দ্রে ভোট হবে। এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখেরও বেশি ভোটার রয়েছেন।
