চতুর্মুখী চাপে অন্তর্বর্তী সরকার
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ নভেম্বর ২০২৪, ১০:৫৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে নির্বাচনের চাপ, উপদেষ্টা পরিষদে ও বিভিন্ন পর্যায়ে নতুন নিয়োগ নিয়ে সমমনাদের তীব্র সমালোচনা, বিভিন্ন মহল থেকে নতুন উপদেষ্টা হওয়ার আগ্রহ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, দাবি-দাওয়া নিয়ে অসন্তোষ- এমন নানামুখী চাপে হিমশিম খেতে হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারকে।
অথচ গত ৩ মাসে এসব ক্ষোভ-অসন্তোষ সামাল দিতে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। পরীক্ষা না দিয়ে এইচএসসিতে কয়েক বিষয়ে ছাত্রদের অটোপাসের আন্দোলন সফল হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা যেন হালে পানি পেয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সচিবালয় এলাকায় কোনো সভা, সমাবেশ নিষিদ্ধের ঘোষণা দিলেও সম্প্রতি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা ঘেরাও করেছিলেন সচিবালয়। নতুন নিযুক্ত দুই উপদেষ্টাকে নিয়েও সমালোচনার ঝড় উঠেছে বিভিন্ন দিক থেকে। তাদের সরিয়ে দেওয়ার দাবিতে হয়েছে বিক্ষোভ সমাবেশও।
পরিপ্রেক্ষিতে চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও ব্যবসায়ী শেখ বশির উদ্দিন টিকতে পারেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দুজনকে নিয়ে সমালোচনা চলছেই।নতুন উপদেষ্টা নিয়োগ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ক্ষোভ আছে পুরনো উপদেষ্টাদের নিয়েও।
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দামে লাগাম টানতে না পারায় বড় চাপে রয়েছে সরকার। শীতের আমেজ পাওয়া গেলেও কোনো শাক-সবজির দাম কমেনি। বরং মাছ, মাংস, দুধ, ডিমসহ সব খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। পুলিশ এখনো মাঠে নামছে না।
দেশে ও বিদেশে বসে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনায় সরব রয়েছেন। বিশেষ করে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য প্যারিসে বসে উপদেষ্টাদের ধুয়ে দিচ্ছেন। অন্যান্য ইউটিউবাররাও একই পথ অবলম্বন করেছেন।
ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে গত ৫ আগস্ট পতিত আওয়ামী লীগ। নানা কায়দা-কানুনে এই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছে দলটি। বিশেষ ড. ইউনূসকে বিপাকে ফেলতে তৎপর রয়েছেন শেখ হাসিনা। ভারতে বসে নানা বিবৃতি দিচ্ছেন তিনি।
এ নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মত, এনজিওগ্রাম সরকার দিয়ে দেশ চলতে পারে না। সরকারে নিয়োগকৃত উপদেষ্টাদের অধিকাংশই চট্টগ্রামের বাসিন্দা। এদের অনেকের এনজিও ব্যাকগ্রাউন্ড। তাছাড়া কয়েকজন গ্রামীণ ব্যাংকের। তাই ‘এনজিও’ আর ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ মিলে এ সরকারকে ‘এনজিওগ্রাম সরকার’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে।
