মামলা ও গ্রেফতার থেকে কারা দায়মুক্তি পাবে?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৪, ১১:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৫ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব ছাত্র-জনতা আন্দোলনের পক্ষে কাজ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা, গ্রেফতার বা হয়রানি করা হবে না। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, গণআন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না, যাতে তারা হয়রানির শিকার না হয়। তবে হত্যা বা লুটপাটের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে তদন্ত সাপেক্ষে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ব্যবস্থা নিতে পারবে।
নোয়াখালীতে এক পুলিশ কনস্টেবল হত্যার ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করার প্রসঙ্গে সজীব ভূঁইয়া উল্লেখ করেছেন, থানা আক্রমণ বা কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত চালিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে যারা প্রকৃত আন্দোলনকারী হিসেবে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছে, তারা এ ধরনের অপরাধের দায় থেকে মুক্ত থাকবে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬৯৫টি মামলায় ১৩ দিনের মধ্যে ৩ হাজার ১৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছাত্র-জনতার জন্য শঙ্কার কিছু নেই, তাদের হয়রানি করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, পুলিশ সদস্যরা এ সময় বিভিন্ন আক্রমণের শিকার হয়েছে এবং ৪৪ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে। সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় হামলা করে ১৩ জন পুলিশ সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের চেয়ারম্যান জেড আই খান পান্না বলেন, ফৌজদারি অপরাধে কাউকে দায়মুক্তি দেয়ার সুযোগ নেই এবং এই ধরনের প্রচেষ্টা বেআইনি। ২০০২-০৩ সালের অপারেশন ক্লিনহার্টের ঘটনায় দায়মুক্তি দেয়া হলেও পরে হাইকোর্ট তা বাতিল করে। মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন বলেন, ফৌজদারি অপরাধ থাকলে সেটি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে রাখার সুযোগ নেই। তিনি উল্লেখ করেন, গণহারে মামলা দায়ের করে সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে, আর সে কারণেই দায়মুক্তির সিদ্ধান্ত এসেছে।
আরো পড়ুন: কারাগারে সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জাহাঙ্গীর আলম
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়নি যে, পুলিশ হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কী হবে। তবে নোয়াখালীতে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে যারা স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা আন্দোলনের পক্ষে মাঠে ছিল, তারা এই দায়মুক্তি পাবে, কিন্তু অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিরা এর আওতাভুক্ত হবেন না।
এই বিষয়ে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ফৌজদারি অপরাধের দায় থেকে কারো বিচার এড়ানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়।
