রিমান্ডে ফুপিয়ে কাঁদছেন পলক, দুষছেন যাদের
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৪, ১১:৪১ এএম
জুনাইদ আহমেদ পলক
সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছেন। পলক বলছেন, মন্ত্রণালয় তিনি চালালেও কোনো কিছু তিনি একা করেনি, সব দোষ দেশত্যাগ করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের; হাসিনা ও জয়ের সঙ্গে মিলেই সব সিদ্ধান্ত নেয়া হতো। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, ১৯ জুলাই রিকশাচালক কামাল মিয়া পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনায় পল্টন থানায় মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় জাতীয় সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু, সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান সৈকতকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড নেয় পল্টন থানা পুলিশ। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদেরকে ঢাকা মহানগর (ডিএমপি) গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে রাখা হয়। থানা-পুলিশ হত্যা মামলার বিষয়ে খোঁজখবর নিলেও সার্বিক বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গ্রেপ্তারে পর থেকেই ভেঙে পড়েন জুনাইদ আহমেদ। পুলিশ কর্মকর্তাদের বলেছেন, তিনি ভাবতেই পারেননি তাকেও গ্রেপ্তার করা হতে পারে। পরে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছেন। পলকের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের হাজার হাজার কোটি টাকা নয়-ছয় করার অভিযোগ রয়েছে।
বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া, অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ করার নামে টাকা হাতানোর চেষ্টাসহ সার্বিক বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় তার কাছে।কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সব দায় নিজের কাঁধে নিতে নারাজ পলক। প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি একা কোনোকিছু করেননি। তার মন্ত্রণালয়ে তার ওপরে সরাসরি একজন উপদেষ্টা কাজ করতেন। ওই উপদেষ্টার সঙ্গে সমন্বয় করেই সবকিছুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
জিজ্ঞাসাবাদে ইন্টারনেট শাটডাউনের বিষয়েও পলক তার দায় অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, প্রতিমন্ত্রী হলেও ইন্টারনেট বন্ধ করার ক্ষেত্রে তার একক কোনও সিদ্ধান্ত ছিল না। এসময় পলক জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ও এনটিএমসির মহাপরিচালক সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নির্দেশনা মেনে তিনি ইন্টারনেট শাটডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এছাড়া ইন্টারনেট শাটডাউনের ক্ষেত্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সায় ছিল।
