যানজট আর জলজটে নাকাল রাজধানীবাসী
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ জুলাই ২০২৪, ০৪:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীতে ঝরছে মুষলধারে বৃষ্টি। কালো মেঘে ঢাকা পড়েছে রাজধানী। মেঘের কারণে দিনেই যেনো নেমেছে সন্ধ্যা। সকালে শুরু হওয়া বৃষ্টি যেনো থামার নামই নেই। থেমে থেমে ঝরছে। যদিও আজ (১৭ আষাঢ়) দিনভর বৃষ্টি নামবে তা আগেই জানিয়ে রেখেছিলো আবহাওয়া অফিস।
আর এই বৃষ্টির কারণে দিনভর ভিজছে ঢাকা। কোথাও কোথাও যানবাহনের সংখ্যা কম আবার কোথাও লাগছে যানজট। পাশাপাশি দিনভর বৃষ্টিতে রাজধানীর কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে জলজটের। সব মিলিয়ে আষাঢ়ের বৃষ্টি বিড়ম্বনায় রাজধানীবাসী।
সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দিনভর বৃষ্টির কারণে কাজে বের হওয়া মানুষরা পড়েছেন ভোগান্তিতে। পাশাপাশি রাজধানীর অনেক স্থানে লেগে থাকছে যানজট, আবার অনেক স্থানেই রয়েছে গণপরিবহন সংকট।
আরো পড়ুন: সারাদেশে ৫ দিন ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে
রাস্তায় বের হওয়া মানুষরা ছাতা মাথায় চলাচল করছেন। সেইসঙ্গে রিকশা-সিএনজি চালকরা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া নেয়ায় বাধ্য হয়ে যাত্রীরা অতিরিক্ত ভাড়াতেই যাতায়াত করছেন। আবার থেমে থেমে দিনভর বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অলি গলিতে কিছুটা জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও মশুলধারে বৃষ্টির পরপরই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পরক্ষণেই নেমে যাচ্ছে পানি। একদিকে দিনভর বৃষ্টি, অন্যদিকে গণপরিবহন সংকট, পাশাপাশি কিছুকিছু সড়কে যানজট, জলজট সব মিলিয়ে রাজধানীতে কাজে বের হওয়া মানুষের ভোগান্তির যেনো শেষ নেই।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আবিদের সঙ্গে বৃষ্টি ভেজা দুপুরে কথা হলে তিনি বলেন, সকাল থেকেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সেই বৃষ্টিতে কখনো ভিজে যাচ্ছি, আবার হাঁটতে হাঁটতে শরীর শুকাচ্ছে। মার্কেটিং এ কাজ করি বলে, বৃষ্টির দিনে ও মার্কেটে ঘোরাঘুরি করতে হচ্ছে। সকাল থেকে বৃষ্টিতে কাজে বের হওয়া মানুষের জন্য খুবই বিরক্তিকর ব্যাপার। এদিকে বৃষ্টির কারণে অনেক স্থানে পর্যাপ্ত গণপরিবহন কম, আবার ঝিগাতলা, সাইন্সল্যাব হয়ে এদিক আসার সময় দেখলাম তীব্র যানজট। কোথাও কোথাও বৃষ্টির কারণে পানি জমে আছে, সব মিলিয়ে সকাল থেকেই যেসব মানুষ কাজে বাইরে আছেন, তারা সবাই ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন।
আরো পড়ুন: ১৭ অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের শঙ্কা
রাজধানীর মালিবাগ মোড়ের দিক থেকে আসা সিএনজি চালক রহিম মিয়া জানান একই ধরনের অভিযোগ। তিনি বলেন, বনানী, মহাখালী, বিজয় সরণি, ফার্মগেট এলাকায় সকাল থেকে যানজট দেখেছি। এখন আবার মালিবাগের দিক থেকে আসলাম, রাস্তায় দেখেছি গণপরিবহন তুলনামূলক কম, তবে বিভিন্ন জায়গায় যানজটের সৃষ্টি হয়ে আছে। পাশাপাশি বৃষ্টির পরপরই বিভিন্ন স্থানে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। হাতিরঝিলের বিভিন্ন অংশে এখনো পানি জমে থাকতে দেখেছি। মানুষ রাস্তায় আছে তবে যাত্রী তুলনামূলক কম। সে কারণে ট্রিপ কম পাওয়া যাচ্ছে, তাই যখন পাচ্ছি যাত্রীদের কাছ থেকে কিছু টাকা বেশি চেয়ে নিচ্ছি।
ছাতা মাথায় হাতিরঝিল ফুটপাতের অস্থায়ী খাবারের এক দোকানি সড়কে দাঁড়িয়ে বলেন, সকাল থেকে বৃষ্টি কারণে সাধারণ মানুষসহ আমাদের মতো দোকানিদের ভোগান্তির শেষ নেই। সকাল থেকে ঠিকমতো দোকানই খুলতে পারিনি, কাস্টমারতো একেবারে নেই। সব মানুষ ছাতা নিয়ে চলাফেরা করছে, অনেক জায়গায় জমেছে পানি। ফলে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। দোকানগুলোতে আজ কোনো কাস্টমারই নেই, ব্যবসার অবস্থা একেবারেই খারাপ। আবার খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ আজ বাইরে বের হয়নি। দিনভর এমন বৃষ্টির কারণে আমার ব্যবসার বারোটা বেজে গেছে।
উল্লেখ্য, আগেই আবহাওয়া অধিদপ্তর আগামী ২ দিনের পূর্বাভাসে বৃষ্টির আভাস দিয়েছিলো। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় ও উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। ফলে সারা দেশে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। যা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে।
