×

জাতীয়

বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর

Icon

কাগজ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৩, ০৮:৩৩ এএম

বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর

ফাইল ছবি

অসহযোগ আন্দোলনের সপ্তদশ দিবস ছিল ১৮মার্চ। এদিনও সরকারি-বেসরকারি ভবনে কালো পতাকা উড়িয়ে, অফিস-আদালতে অনুপস্থিত থেকে সব শ্রেণির কর্মচারী বঙ্গবন্ধু ঘোষিত সংগ্রামের কর্মসূচি সফল করে তোলেন। জনগণের কণ্ঠে উচ্চারিত স্লোগান ছিল- ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর।’ মিছিলকারীদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘তোমরা ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল। জনগণের রক্তের সঙ্গে আমি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারি না।’

এদিনেই বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত বাঙালি সৈনিকরা স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন। ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্মীরা বাংলাদেশে অবসর প্রাপ্ত সৈনিকদের স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে একাত্ম করতে বিভিন্ন স্থানে মত বিনিময় চালিয়ে যেতে থাকেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষ সামরিক প্রশিক্ষণের প্রস্তুতি নিতে থাকে। মহিলা পরিষদের মেয়েরাও পিছিয়ে ছিলেন না। তাদের ও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সদস্যরা তেজগাঁও-মহাখালীতে শ্রমিকদের ট্রাকে হামলা চালায়। আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের উসকানি আর সহ্য করা হবে না। স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এক বিবৃতিতে আমেরিকা, ব্রিটেন, রাশিয়া, চীন প্রভৃতি শক্তির প্রতি তাদের সরবরাহ করা অস্ত্র দ্বারা বাঙালি হত্যার অপচেষ্টা বন্ধ করার আবেদন জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির

নেতারা অপর এক বিবৃতিতে বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুদ্ধিজীবীদের কাছে তারবার্তা প্রেরণ করে আসন্ন গণহত্যা ও যুদ্ধ থেকে পশ্চিম পাকিস্তানিদের নিবৃত্ত করার অনুরোধ জানান। এদিকে মুজিব-ইয়াহিয়ার বৈঠকের পর পরবর্তী বৈঠকের কোনো সময় নির্ধারণ না হওয়ায় জনমনে উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়। একাত্তরের ১৮ মার্চ ভোর থেকে রাত পর্যন্ত জনতা তাদের আশা-আকাক্ষার প্রতীক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে ভিড় জমান। এই বাড়িটি হয়ে ওঠে মুক্তিকামী মানুষের মহামিলন ক্ষেত্রও। সব পথ যেন মিশেছে ওই বাড়িতে। দিনভর মিছিলের পর বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতার প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন জানাতে এলে বঙ্গবন্ধু সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে বারবার উঠে এসে সমবেত জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন।

তিনি বলেন, বিদেশি বন্ধুরা দেখুন। আমার দেশের মানুষ প্রতিজ্ঞায় কি অটল। সংগ্রাম আর ত্যাগের মর্মে কত উজ্জীবিত, কার সাধ্য এদের রোখে। স্বাধীনতার জন্য জীবনদানের অগ্নিশপথে দীপ্ত জাগ্রত জনতার এ জীবন জোয়ারকে, প্রচণ্ড গণবিস্ফোরণকে স্তব্ধ করতে পারে- এমন শক্তি মেশিনগানেরও আজ আর নেই। জনতাকে চূড়ান্ত লড়াইয়ে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেন, মুক্তি সংগ্রামের পতাকা আরও ওপরে তুলে ধরো। সাত কোটি শোষিত-বঞ্চিত বাঙালির সার্বিক মুক্তি না আসা পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাও।

এদিন অনেক বিদেশি সাংবাদিক বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে এসেছিলেন। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আরও সৈন্য আনা হচ্ছে, সে সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু কিছু জানেন কিনা- বিদেশি এক সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, আমার দেশের মাটিতে যা কিছু ঘটছে তার সব খবরই আমি রাখি।

এদিকে দিনব্যাপী জনতার মিছিলের পর রাতে সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়, পরদিন বেলা ১১টায় প্রেসিডেন্ট ভবনে আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের মধ্যে রাজনৈতিক সংকট নিয়ে তৃতীয় দফা আলোচনা হবে। এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বুদ্ধিজীবীদের কাছে তারবার্তা পাঠিয়ে, গণহত্যা ও যুদ্ধ থেকে পশ্চিম পাকিস্তানির নিবৃত্তি করার অনুরোধ জানান।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ছাত্রদলের পদ হারালেন আব্দুর রহিম ভূঁইয়া

ছাত্রদলের পদ হারালেন আব্দুর রহিম ভূঁইয়া

বিশ্বকাপের আগে বড় দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা

বিশ্বকাপের আগে বড় দুঃসংবাদ পেল আর্জেন্টিনা

বাবার লাশ দেখতে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল মেয়ের

বাবার লাশ দেখতে বাড়ি ফেরার পথে প্রাণ গেল মেয়ের

নেইমারকে নিয়ে সব বিতর্কের জবাব দিলেন আনচেলত্তি

নেইমারকে নিয়ে সব বিতর্কের জবাব দিলেন আনচেলত্তি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App