বালু উত্তোলন নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, ১১ মোটরসাইকেলে আগুন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে চরের বালু অবৈধ ভাবে উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উত্তেজিত গ্রামবাসীরা ১১টি মোটরসাইকেলে আগুন দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে পৌর শহরের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সরকারি কলেজ সংলগ্ন চরআলগী মৌজায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি কলেজ সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদের চরটি মূলত চরআলগী মৌজার বাসিন্দাদের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ নিয়ে ইতিপূর্বেও একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুক্তার হোসেনের অনুসারীরা স্থানীয় বাসিন্দা সাত্তার, বাবুল ও সাদেকের জমিতে জোরপূর্বক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করেন। জমির মালিকরা এতে বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে মুক্তার হোসেনের শতাধিক অনুসারী দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন।
ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে মুক্তারের অনুসারীরা স্থানীয় নৌকার মাঝি ওয়াইজ উদ্দিন ওরফে পাবলিককে বেধড়ক মারধর করেন এবং তার নৌকায় আগুন ধরিয়ে দেন। ওই মাঝি প্রাণ বাঁচাতে নদী সাঁতরে তীরে গিয়ে গ্রামবাসী ও স্বজনদের বিষয়টি জানান। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে চরআলগী মৌজার কয়েকশ গ্রামবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ সময় গ্রামবাসীর সম্মিলিত ও জোরালো ধাওয়ার মুখে মুক্তার হোসেনের অনুসারীরা তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলো ফেলে রেখে প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। পরে উত্তেজিত জনতা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে ফেলে রাখা ওই পক্ষের ১১টি মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনার পর এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গফরগাঁও সার্কেল) মনতোষ বিশ্বাস জানান, ‘চরআলগী এলাকায় বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। চরের লোকজন ও বিপরীতপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কারা জড়িত তা তদন্ত শেষে জানা যাবে। অভিযোগ পেলে বিস্তারিত জানানো হবে।’
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
