শেরপুর সীমান্তে নিয়ন্ত্রণহীন মাদক পাচার
খোরশেদ আলম, শেরপুর থেকে
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
শেরপুর সীমান্তে নিয়ন্ত্রণহীন মাদক পাঁচার। এর সাথে রাসেল বাহিনীর প্রধান যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গোলাম কিবরিয়া ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়ন যুবদলের সহসভাপতি। তার বাড়ি নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধাকুড়া গ্রামে।
জানা গেছে, শেরপুর সীমান্তের শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক সম্রাট রাসেল ওই যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়ার ভাগিনা । গোলাম কিবরিয়ার আত্মীয় সজনরা সবাই মাদক পাঁচারের সাথে জরিত। স্থানীয়রা জানান এ বাহিনীর সদস্যরা সবাই মাদক পাচার সাথে জরিত। গত দুইযুগ ধরে তারা মাদক ব্যবসা করে আসছে। তবে অতিতে গোপনে চলেছে মাদক পাঁচার। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ঠ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাসেল ২ শতাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ে সীমান্তে মাদক পাচারের উদ্দেশ্যে এখানে গড়ে তুলে একটি বিশাল বাহিনী। তারা ভারত সীমান্তের ওপারে বসবাসকারিদের যোগসাজশে অবাধে মাদক,৷ করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে রাসেল বাহিনী সীমান্তে মেশি বসি জালটাকা তৈরিসহ চোরাচালানির ব্যবসা চালিয়ে আসছে। চোরাকারবারিরা সীমান্তপথে ভারত থেকে দিনেরাতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকা মুল্যের মাদক পাঁচার করে আসছে।
চলছে সীমান্ত পথে অবাধে মাদক পাচার। প্রতিদিন গড়ে কোটি টাকার মাদক ভারত থেকে পাচার হয়ে আসছে বাংলাদেশে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা চোরাকারবারিদের কাছ থেকে তারা মাসোহারা আদায় করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত প্রায় দুইযোগ ধরে রাসেল মাদক কারবারির সাথে জরিত। অনুসন্ধানে গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত দুই যুগেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শীর্ষ সন্ত্রাসী রাসেল বাহিনীর কোটি কোটি টাকা মূল্যের মাদকও কভারভ্যান জব্দ করা হয় । বিভিন্ন সময় সন্ত্রাসী রাসেলের নামে মাদক পাঁচার, ভারত থেকে মোটরসাইকেল চুরিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিষয়ে দুই ডজনখানেক মামলা হলেও আবার কোন কোন সময় গ্রেপ্তার করা হলেও জামিনে এসে আবারো পুরো দমে শুরু করেছে মাদক পাঁচার। ।
অভিযোগ রয়েছে গোলাম কিবরিয়ার নেতৃত্বে ও দিক নির্দেশনায় মাদক সম্রাট রাসেল গারো পাহাড়ে গড়ে তুলে দুই শতাধিক কিশোর গ্যংসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নারী পুরুষ মিলে এক বিশাল বাহিনী। এ বাহিনী রাসেল বাহিনি নামে পরিচিত । এ এ বাহিনীর নিজস্ব অর্থে ক্রয় করা অর্ধশতাধিক কভারভ্যান, ব্যাটারিচালিত অটো ও সিএনজি। স্থানীয়দের অভিযোগ রাসেল বাহিনী গারো পাহাড়ের সীমান্তে গত দুইযুগ ধরে চোরাচালান ব্যবসা চালিয়ে আসছে।
শেরপুরের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো,রহুল আমীন জানান ২০২৪ সালের জুন মাস থেকে ২০২৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত ইয়াবা, গাঁজা,ভারতীয় মাদক, ১১ টি অস্ত্রসহ কোটি টাকা সুল্যের ভারতীয় বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো, আল আমিন বলেন গত এক বছরে কোটি টাকা মূল্যের মাদকসহ বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। এবং পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।
বিজিবির ৩৯ ব্যালিয়নের সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী হাসান পিপিএম বলেন গত এক বছরে শেরপুর সীসান্ত পথে ভারত থেকে পাচারকালে মাদকসহ প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের সামগ্রী উদ্ধার করেছে বিজিবি। তিনি আরো বলেন সর্বভৌমন্ত রক্ষা ও ভারত থেকে মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেট বন্ধে বিজিবির অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
