ইরানি ড্রোন ও রাডার স্টেশনে মার্কিন হামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর শনিবার (৬ জুন) দেশটির উপকূলীয় রাডার স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে পরোক্ষ আলোচনা চলার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ওই অঞ্চলে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে চারটি ইরানি ড্রোন মোতায়েন করা হয়েছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নিশ্চিত হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড হরমুজ প্রণালির গোরুক ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত ইরানের নজরদারি চৌকিগুলোতে বিমান হামলা চালায়।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হতো। বর্তমানে ইরান কার্যত এই নৌপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং আটকে থাকা শত শত কোটি ডলারের তেল রাজস্বের অংশ দাবি করছে।
আরো পড়ুন : ওমান উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজে মিসাইল-ড্রোন নিক্ষেপ ইরানের
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপরও রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে।
তবে ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের কাছে এখনো তাদের মোট ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে। চুক্তি সম্পন্ন করতে ইরানের সময় নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ইরান একটি গর্বিত ও শক্তিশালী জাতি। তার মতে, এমন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি ইরান হয়েছে, যা তারা আগে কখনো কল্পনা করেনি। কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় তাদের সেসব পরিস্থিতি মেনে নিতে হচ্ছে। এ কারণেই সম্ভাব্য সমঝোতা চূড়ান্ত হতে আরো কিছুটা সময় লাগতে পারে।
