পাকিস্তানে ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক, নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
ছবি : সংগৃহীত
পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে এবার প্রতিনিধিদল থেকে বাদ রাখা হয়েছে। এ কারণে কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলে যারা ছিলেন তাদের বেশিরভাগই এবারও থাকছেন। তবে দলনেতা হিসেবে থাকা মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সকে এবার পাঠানো হচ্ছে না। যদিও বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার প্রতিনিধিদলে থাকছেন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, তারা শনিবার পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা দেবেন। তবে দ্বিতীয় দফার বৈঠকের নির্দিষ্ট সময় এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
প্রথম দফার আলোচনা দীর্ঘ সময় ধরে চললেও কোনো সমঝোতা হয়নি। প্রায় ২১ ঘণ্টার বৈঠকের পরও ব্যর্থ হয়ে ফিরতে হয়েছিল জেডি ভান্সকে। সেই প্রেক্ষাপটে দ্বিতীয় দফায় তাকে আপাতত দূরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে ইসলামাবাদের আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে ট্রাম্প ও ভান্সকে নিয়মিত অবহিত করা হবে।
অন্যদিকে, ইরানও একই ধরনের কৌশল নিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ প্রথম দফায় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন। তবে এবার আলোচনায় থাকছেন না তিনি। এদিকে, ইরানের আলোচনায় অংশ নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন।
আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে গতি ফেরাতে পাকিস্তানের তৎপরতা
দুই পক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের এই পরিবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অনেকের মতে, আগের ব্যর্থতার পর নতুন কৌশলে আলোচনায় অগ্রগতি আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আরাঘচি ত্রিদেশীয় সফরের অংশ হিসেবে পাকিস্তানের পাশাপাশি ওমান ও রাশিয়া সফরের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতেই এই সফর।
যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় দফার আলোচনার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূল বৈঠকের আগে অনানুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার ভিত্তি তৈরি করতে চায় উভয় পক্ষ, যাতে আগের মতো ব্যর্থতা না ঘটে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনকি পাকিস্তানের অনুরোধেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতির মেয়াদ বাড়িয়েছে বলেও খবর রয়েছে। ফলে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে সমঝোতায় পৌঁছাতে উভয় দেশই আগ্রহী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
