মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন বিশেষজ্ঞ পাঠাচ্ছেন জেলেনস্কি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ০২:২০ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনের ড্রোন প্রযুক্তি সহযোগিতা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। তিনি জানিয়েছেন, 'ইউক্রেনের ড্রোন বিশেষজ্ঞদের একটি দল আগামী সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে যাবে।'
সোমবার (৯ মার্চ) নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী রব জেটেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ পরিকল্পনার কথা জানান জেলেনস্কি।
তিনি বলেন, মূলত ড্রোন প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র পাওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা, কে এই মুজতবা খামেনি?
বর্তমানে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ব্যয়বহুল পিএসি–৩ আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের ঘাটতিতে রয়েছে। কিয়েভ আশঙ্কা করছে, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুরু হলে এই সরবরাহ আরও বিঘ্নিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে ইউক্রেন।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউক্রেন তাদের তৈরি ড্রোন ইন্টারসেপ্টর প্রযুক্তি ভাগাভাগি করবে। এর বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ ইউক্রেনকে দেবে। জেলেনস্কির মতে, 'এই প্রযুক্তি ইরানি ড্রোন হামলা মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে আরও কার্যকর সুরক্ষা দিতে পারে।'
যুক্তরাষ্ট্র ও তার উপসাগরীয় মিত্রদের ড্রোন মোকাবিলায় কীভাবে সহায়তা করা হবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে জেলেনস্কি বলেন, 'এ মুহূর্তে বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। তিনি জানান, আগামী সপ্তাহে বিশেষজ্ঞরা সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন এবং সম্ভাব্য সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবেন।'
জেলেনস্কি আরো বলেন, 'তিনি আশা করছেন এই উদ্যোগ উভয় পক্ষের জন্যই একটি সুযোগ হয়ে উঠবে।'
উল্লেখ্য, রাশিয়া গত কয়েক বছর ধরে ইউক্রেন যুদ্ধে ইরানের নকশা করা শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। এর জবাবে ইউক্রেন তুলনামূলক সস্তা ও কার্যকর ড্রোন ইন্টারসেপ্টর তৈরি করেছে। কিয়েভের দাবি, আকাশে আক্রমণকারী ড্রোন ধ্বংসে তাদের এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর।
আরো পড়ুন: ৩ ইরানি জাহাজকে বন্দরে ঢুকতে দিলো ভারত
গত শীতকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় ইউক্রেনের বেসামরিক অবকাঠামো রুশ বিমান হামলার ঝুঁকিতে পড়েছিল। এতে তীব্র শীতে লাখো মানুষকে হিটিং সুবিধা ছাড়া থাকতে হয়েছিল। তবে ইউক্রেনের কাছ থেকে এ ধরনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে কি না এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বা উপসাগরীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
