ইরানের বিরুদ্ধে লড়তে কুর্দিদের অস্ত্র দিচ্ছে সিআইএ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ মার্চ ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ইরানে গণ-অভ্যুত্থান উসকে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ইরাকি কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুর্দিরা ইরানের সামরিক বাহিনীকে ব্যস্ত রাখবে এবং বড় শহরগুলোতে সাধারণ মানুষ যেন পুনরায় সহিংসতার শিকার না হয়।
সিএনএনের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানি বিরোধী গোষ্ঠী এবং ইরাকের কুর্দি নেতাদের সঙ্গে সক্রিয় আলোচনা চালাচ্ছে। ইরাকি কুর্দিস্তান সীমান্তে ইতোমধ্যেই কয়েক হাজার কুর্দি যোদ্ধা অবস্থান করছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিছু গোষ্ঠী প্রকাশ্যে বিবৃতি দিয়ে ইরানের সামরিক বাহিনীকে দলত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইতোমধ্যেই তাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে।
এক জ্যেষ্ঠ কুর্দি কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে কুর্দিরা ভবিষ্যতের স্থল অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত। কুর্দি মিলিশিয়ারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনের প্রত্যাশা করছে। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি কুর্দিস্তানের কেডিপিআই নেতা মুস্তাফা হিজরির সঙ্গে ফোনে আলোচনা করেছেন।
পরিকল্পনা হলো, কুর্দি সশস্ত্র বাহিনী ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে তাদের ব্যস্ত রাখবে, যাতে বড় শহরগুলোতে সাধারণ মানুষ আবারও সহিংসতার শিকার না হয়। পাশাপাশি, কুর্দিরা যদি ইরানের উত্তরে ভূখণ্ড দখল করতে সক্ষম হয়, তবে তা ইসরায়েলের জন্য একটি বাফার জোন হিসেবে কাজ করতে পারে।
আরো পড়ুন : ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদ রাশিয়া ও চীনের
সিএনএনের বিশ্লেষকরা এবং সাবেক পেন্টাগনের কর্মকর্তা অ্যালেক্স প্লিটসাস ও জেন গাভিতো মনে করেন, কুর্দিদের অস্ত্র দেওয়া হলে ইরানে শাসন উৎখাতের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হবে। তবে সীমান্তে অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং কুর্দি গোষ্ঠীর মধ্যেকার বিভক্তি এই পরিকল্পনার জটিলতা আরো বাড়াচ্ছে।
ইরাক ও সিরিয়ায় অতীতের যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অভিযানের অভিজ্ঞতা থেকে কুর্দিরা কখনও কখনও ব্যর্থতা ও প্রত্যাখ্যানের অনুভূতি পেয়েছে। তাই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অংশীদারিত্বের আগে তারা রাজনৈতিক নিশ্চয়তা চাইছে।
বর্তমানে বিশ্বের আনুমানিক আড়াই থেকে ৩ কোটি কুর্দি বসবাস করছে, যারা প্রধানত তুরস্ক, ইরাক, ইরান, সিরিয়া ও আর্মেনিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে ছড়িয়ে আছে। এই জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী কোনও স্বীকৃত রাষ্ট্রের অধিকারী নয়, তবে তাদের সামরিক শক্তি ও ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
