×

মধ্যপ্রাচ্য

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নেপথ্যে যে কারণ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নেপথ্যে যে কারণ

ছবি : সংগৃহীত

ইরানে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। দুই দেশের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ৮৬ বছর বয়সী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি দাবি করেন, পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমও তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সবচেয়ে বড় পররাষ্ট্রনীতি-সংক্রান্ত ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে এই পদক্ষেপকে। নির্বাচনী প্রচারণায় নিজেকে শান্তির প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরলেও, কূটনৈতিক সমাধানের বদলে সামরিক পথ বেছে নেন তিনি। গত সপ্তাহের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ এবং শনিবারের ভিডিও বার্তায় হামলার পেছনের কয়েকটি প্রধান লক্ষ্য তুলে ধরেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তার দাবি, গত জুনে চালানো হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা হয়েছিল, কিন্তু তেহরান তা পুনর্গঠনের চেষ্টা করছিল।

তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পূর্ববর্তী মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান ২০০৩ সালেই পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচি বন্ধ করে। ইরানও বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার দাবি করে।

ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, ইরান দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে, যা ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র, বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনা এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের জন্যও হুমকি হতে পারে। যদিও এসব দাবির পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ তিনি প্রকাশ করেননি। তবে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি করেছে।

ট্রাম্প বলেন, শনিবারের হামলার উদ্দেশ্য ছিল ইরানি শাসনের তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করা। তিনি ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল এবং ১৯৮৩ সালে বৈরুতে মার্কিন মেরিন ব্যারাকে হামলার ঘটনাসহ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর বিভিন্ন আক্রমণের কথা উল্লেখ করেন।

এছাড়া তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার জন্য হামাসকে সমর্থনের অভিযোগও তোলেন, যার জন্য তেহরানকে দায়ী করেন ওয়াশিংটন।

স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে ইরান হাজার হাজার নাগরিককে হত্যা করেছে। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

আরো পড়ুন : পশ্চিমবিরোধী কঠোর শাসনের মূর্ত প্রতীক ছিলেন খামেনি

হামলার পর ট্রাম্প ইরানের জনগণের প্রতি শাসনব্যবস্থা নিজেদের হাতে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আপনাদের স্বাধীনতার সময় এসে গেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্যভিত্তিক বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে।

ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্ট থেকে অভিযান পর্যবেক্ষণ করছেন ট্রাম্প। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী আগেই জানিয়েছিলেন, খামেনির কম্পাউন্ড ধ্বংস করা হয়েছে। পরে ইরানি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।

টাইমলাইন: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

আলোচনার টেবিলে আসতেই হবে ইরানকে: ফ্রেডরিক ম্যার্ৎস

আলোচনার টেবিলে আসতেই হবে ইরানকে: ফ্রেডরিক ম্যার্ৎস

শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আজও প্রাসঙ্গিক

প্রধানমন্ত্রীর বাণী শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম আজও প্রাসঙ্গিক

বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ, যা বলছে নির্বাচন কমিশন

বিজেপির বিরুদ্ধে ইভিএম কারচুপির অভিযোগ, যা বলছে নির্বাচন কমিশন

ফের সু চির সাজা কমলো জান্তা সরকার

ফের সু চির সাজা কমলো জান্তা সরকার

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App