×

মধ্যপ্রাচ্য

পশ্চিমবিরোধী কঠোর শাসনের মূর্ত প্রতীক ছিলেন খামেনি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩০ এএম

পশ্চিমবিরোধী কঠোর শাসনের মূর্ত প্রতীক ছিলেন খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ৮৬ বছর বয়সী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের রাজনীতিকে প্রভাবিত করা সংঘাতেই খামেনির মৃত্যু হয়েছে। হামলার পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তাও রয়টার্সকে জানিয়েছে।

১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্র উৎখাতের পর প্রতিষ্ঠিত ইসলামি প্রজাতন্ত্রে তিনি একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেন। তার শাসনামলে পশ্চিমাবিরোধী কঠোর অবস্থান, অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা দমন এবং আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেওয়ার নীতিই ছিল প্রধান বৈশিষ্ট্য।

৩৬ বছরের শাসনামলে বহুবার আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়লেও সাম্প্রতিক সময় ছিল তার জন্য সবচেয়ে বড় সংকটকাল। চলতি বছরই মূল্যস্ফীতিবিরোধী দেশব্যাপী বিক্ষোভে কঠোর দমনপীড়নের নির্দেশ দেন তিনি। “স্বৈরশাসকের পতন চাই” স্লোগানে উত্তাল আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

গত জুনে ইসরায়েল ও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ দিনের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিপ্লবী গার্ডের কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডার নিহত হন। ওই সময় খামেনিকে আত্মগোপনে যেতে হয়েছিল।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল আক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে। ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলায় আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব হয় তেহরানের। লেবাননে হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনের ঘটনাও ইরানের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।

আরো পড়ুন : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনি নিহত, ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগের দাবি জানালেও খামেনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। ইরান এসব ক্ষেপণাস্ত্রকে নিজেদের প্রতিরোধক্ষমতার শেষ ভরসা হিসেবে বিবেচনা করে।

২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিতে খামেনির শর্তসাপেক্ষ সমর্থন ছিল। তবে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৮ সালে চুক্তি থেকে সরে গিয়ে পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। জবাবে তেহরান ধাপে ধাপে চুক্তির সীমাবদ্ধতা লঙ্ঘন শুরু করে।

খামেনি ‘হিরোইক ফ্লেক্সিবিলিটি’ বা কৌশলগত নমনীয়তার ধারণা সামনে আনেন ২০১৩ সালে, যা প্রয়োজনে আপসের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।

ক্ষমতা ধরে রাখতে খামেনি ব্যাপকভাবে নির্ভর করতেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ও বাসিজ বাহিনীর ওপর। ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর বিক্ষোভ, ২০২২ সালে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক প্রতিবাদ, সব ক্ষেত্রেই কঠোর দমননীতি প্রয়োগ করা হয়।

তার প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণাধীন অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক ‘সেতাদ’, যার মূল্য কয়েক দশক বিলিয়ন ডলার- বিপ্লবী গার্ডকে অর্থায়নসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে।

১৯৬৩ সালে শাহবিরোধী কর্মকাণ্ডে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা এবং ১৯৮১ সালে বোমা হামলায় আহত হয়ে ডান হাত আংশিক পঙ্গু হওয়া, এই ঘটনাগুলো তার রাজনৈতিক চরিত্রে গভীর প্রভাব ফেলে। ইরান-ইরাক যুদ্ধকালীন সময়ে প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি গার্ড বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমদিকে তাকে দুর্বল নেতা হিসেবে দেখা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর দৃঢ় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে তিনি ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

খামেনির মৃত্যু ইসলামি প্রজাতন্ত্রের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হবে এবং দেশটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।

টাইমলাইন: ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ

আরো পড়ুন

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

এবার দুই বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে বুবলী অভিনীত যে সিনেমা

এবার দুই বাংলায় মুক্তি পাচ্ছে বুবলী অভিনীত যে সিনেমা

বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচলো ছোট্ট সাফিয়া

বজ্রপাতে বাবার মৃত্যু, কোল থেকে ছিটকে প্রাণে বাঁচলো ছোট্ট সাফিয়া

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত, নিহত ১১

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত, নিহত ১১

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App