অভিবাসীদের অধিকার ও ন্যায়বিচারে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার তাগিদ
মীম ওবাইদুল্লাহ
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
অভিবাসী কর্মীদের প্রতারণা, শোষণ ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জটিলতা তুলে ধরতে বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে অভিবাসন খাতে সাধারণ মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্যভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে ‘অভিবাসন অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তি’ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির (বিএনডব্লিউএলএ) উদ্যোগে এই প্রেস ক্যাফের আয়োজন করা হয়। সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়ন ও হেলভেটাস বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘স্ট্রেনদেনড অ্যান্ড ইনফর্মেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেমস (সিমস) II’ প্রকল্পের অ্যাক্সেস টু জাস্টিস কার্যক্রমের আওতায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও গন্তব্য দেশ উভয় জায়গায় অভিবাসী কর্মীরা নানা ধরনের গুরুতর প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন। বিশেষ করে প্রতারণা, শোষণ এবং আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা বিভিন্নভাবে বাধার সম্মুখীন হন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিবাসী শ্রমিকদের নানা সংকট, প্রতারণা ও ভোগান্তির চিত্র বস্তুনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানমূলকভাবে গণমাধ্যমে উঠে এলে জনসচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনি দায়িত্বশীল পক্ষগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে। তথ্যসমৃদ্ধ ও পেশাদার সাংবাদিকতা অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তাঁরা মত দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনডব্লিউএলএর সভাপতি অ্যাডভোকেট সীমা জহুর। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির পরিচালক মোর্শেদ বিলাল খান। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হেলভেটাস বাংলাদেশের সিমস প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রেমাংশু শেখর সরকার। এ ছাড়া সিমস প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন বিএনডব্লিউএলএর প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার মো. হানিফ মাহমুদ।
প্রেস ক্যাফেতে দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা অংশ নেন। তাঁরা অভিবাসন খাতে বিদ্যমান সমস্যা, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির প্রতিবন্ধকতা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনির ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় বিশেষজ্ঞ সাংবাদিক কুররাতুল-আইন-তাহমিনা। তাঁরা অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রমাণভিত্তিক ও নৈতিক সাংবাদিকতা এবং অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।
