মোল্লাহাটে তালের বাম্পার ফলন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে কোটি টাকা সংযোজন
মো. সুজন মোল্লা ও মো. হারুন আল রশিদ, বাগেরহাট
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় এ বছর তালের বাম্পার ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে রাস্তার ধারে, খেতের সীমানায় ও বসতভিটায় থাকা তালগাছগুলোতে প্রচুর ফলন হওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মোল্লাহাটে বর্তমানে ফলন্ত তালগাছের সংখ্যা ১৪ হাজার ৩০০টি। প্রতিটি গাছে গড়ে ১৫ থেকে ১৮টি কাদি এবং প্রতি কাদিতে গড়ে ১৫টি করে তাল রয়েছে। সে হিসেবে এ বছর উপজেলায় প্রায় ৩২ লাখ ১৭ হাজার ৫০০টি তাল উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ট্রাকভর্তি তাল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে। কৃষক পর্যায়ে মাঠ থেকে প্রতি পিস তাল গড়ে ১ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদনের এ হিসাব অনুযায়ী মোল্লাহাটে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রায় ৩ কোটি ২১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার সংযোজন হচ্ছে। অন্যদিকে ভোক্তা পর্যায়ে বাজারে প্রতি পিস তাল ৫ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, তালগাছের তেমন পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। প্রাকৃতিকভাবেই ফলন হয় এবং খরচ ছাড়াই প্রতিবছর ভালো আয় পাওয়া যায়। ফলে অনেকেই এখন তালগাছ সংরক্ষণ ও নতুন করে রোপণে আগ্রহী হচ্ছেন।
পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, তালের স্বাদ ও মান ভালো হওয়ায় মোল্লাহাট থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ তাল দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, তালগাছ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে গত ১২ বছর ধরে প্রায় ৩ হাজার তালের চারা রোপণ করা হয়েছে। এ ছাড়া গত বছর সরকারি প্রণোদনা ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে আরও প্রায় ২০০টি তালের চারা রোপণ করা হয়।
মোল্লাহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, তাল একটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। এতে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান মানবদেহের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও তালগাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই তালগাছ রোপণ ও সংরক্ষণে কৃষি বিভাগ বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
কৃষি-সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তালভিত্তিক উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থার আরও উন্নয়ন ঘটানো গেলে ভবিষ্যতে মোল্লাহাটে এটি একটি সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখবে।
