বিক্রি না হওয়ায় নদীর পাড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে কোরবানির পশুর চামড়া
মসিউর ফিরোজ, সাতক্ষীরা থেকে
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৪:০১ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানিকৃত পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। অনেকেই চামড়া বিক্রি করতে না পেরে মাটিতে পুঁতে ফেলছেন, আবার কেউ কেউ নদীর পাড়ে ফেলে রাখছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এমন চিত্র দেখা গেছে। গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আনা চামড়াগুলো শুক্রবার সকাল ১০টা পর্যন্ত উপকূলীয় নীলডুমুর বাজারের পাশে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।
ঈদের দিন সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, এতিমখানা ও মাদরাসার লোকজন কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন। তবে দিনভর ঘুরেও আশানুরূপ ক্রেতা না পাওয়ায় অধিকাংশ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়। গরু, ছাগল ও খাসির চামড়ার ক্রেতা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে তা ফেলে দেন কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলেন।
আরো পড়ুন : লবণযুক্ত চামড়া আনলে নির্ধারিত মূল্য পাওয়া যাবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার বাজার আরো খারাপ অবস্থায় রয়েছে। আড়তদাররা কম দামে চামড়া কিনতে চাইলেও পরিবহন ব্যয় ও লবণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তারা লোকসানের আশঙ্কায় চামড়া কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এতে সাধারণ মানুষ চরম হতাশায় পড়েছেন।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম ও বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদ্রাসার খতিব হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, সারাদিন ও সারারাত অপেক্ষা করেও কেউ চামড়া নিতে আসেনি। পরে দুর্গন্ধ ছড়ানোর আশঙ্কায় মাটিতে পুঁতে ফেলতে হয়েছে। গাবুরা চাঁদনীমুখা মাদ্রাসার সভাপতি মো. আবুও একই অভিযোগ করেন।
স্থানীয় মাদরাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানান, প্রতি বছর কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে শিক্ষার্থীদের খরচের একটি অংশ পরিচালনা করা হয়। কিন্তু এবার চামড়ার দাম না থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এদিকে সরকার কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করলেও মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত আড়তের অভাবে চামড়ার বাজারে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।
