টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় নিলামে কেনা মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মনিরামপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে জামায়াতের স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হকের নেতৃত্বে আজ শুক্রবার (১ মে) বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন দলের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ থেকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন গাজী এনামুল হক। বেধে দেওয়া সময়ে জড়িতদের আটক না করলে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিহর নদ খননের উত্তোলিত মাটি নিলামে কেনার পর তা বেশি দামে বিক্রি করে অর্জিত অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামীর সমর্থিত স্থানীয় সংসদ সদস্য গাজী এনামুল হক ফেসবুক পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলার নিন্দা জানান। তিনি অভিযোগ করেন, মাগরিবের নামাজ শেষে মনিরামপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় যশোর জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য মাওলানা মহিউল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আহসান হাবিব লিটনসহ নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। আহত জামায়াত নেতা আহসান হাবিব লিটন বলেন, ‘নামাজ শেষে দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থানকালে বিএনপির নেতা-কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়।’
অন্যদিকে, মনিরামপুর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু দাবি করেন, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা আগে তরকারি বাজারে হামলা চালিয়ে ছাত্রদলের সালিমুন হোসেন ও আল মামুনকে আহত করেন। পরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষে তাঁদের দলের আরও ৮-১০ জন আহত হন। এদিকে সংঘর্ষের জেরে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চালকিডাঙ্গা বাজারে ছাত্রদল কর্মী আসাদুজ্জামান সবুজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সময়ে বাধাঘাটা এলাকায় আনাস নামে এক শিবিরের কর্মী হামলায় আহত হন।
এ বিষয়ে মনিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) বদরুজ্জামান বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।
