×

আন্তর্জাতিক

মরুর বুকে চীনের ‘পারমাণবিক দুর্গ’, নতুন উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

Icon

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৬, ০৩:৫৮ পিএম

মরুর বুকে চীনের ‘পারমাণবিক দুর্গ’, নতুন উদ্বেগে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি- সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যেকোনো আকস্মিক হামলা থেকে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার সুরক্ষিত রাখতে এক অভিনব কৌশল নিয়েছে চীন। দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের এক প্রত্যন্ত মরুভূমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে বিশাল ও জটিল এক সামরিক অবকাঠামো। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং এই ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করছে, যাতে ওয়াশিংটনের কোনো সম্ভাব্য প্রথম হামলায় চীনের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস না হয় এবং আক্রান্ত হলেও যেন শতভাগ শক্তির সঙ্গে পাল্টা জবাব দেওয়া যায়।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পর্যালোচনায় আসা কিছু উপগ্রহচিত্রে (স্যাটেলাইট ইমেজ) চীনের এই গোপন ও সুবিশাল সামরিক তৎপরতার চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। উপগ্রহচিত্রে দেখা গেছে, পূর্ব সিনচিয়াং অঞ্চলের হামি পারমাণবিক সাইলো (ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার) এলাকাকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার বর্গকিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এক সামরিক নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়েছে।

এই নেটওয়ার্কের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো বিশাল আকৃতির তিনটি অষ্টভুজাকৃতির স্থাপনা। এর মধ্যে উত্তরের অষ্টভুজটি সেনা সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা, সামরিক যান এবং ছদ্মবেশী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণস্থলের এক জটিল সংমিশ্রণ। এর আশপাশে বাঙ্কার, আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার, বিমানঘাঁটি ও রেলসংযোগ রয়েছে, যা সরাসরি মূল পারমাণবিক সাইলোর সঙ্গে যুক্ত। দক্ষিণের অষ্টভুজে শক্তিশালী বাঙ্কার ও জ্বালানি সংরক্ষণাগার গড়ে তোলা হয়েছে। আর তৃতীয় অষ্টভুজটি লপ নুর পারমাণবিক পরীক্ষাকেন্দ্রের দক্ষিণে অবস্থিত, যা সম্ভবত সামরিক মহড়ার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেখানে পশ্চিমা যুদ্ধবিমানের আদলে তৈরি বেশ কিছু নকল বিমানও দেখা গেছে।

মরুভূমির পাহাড়ি পাথর ও শুকনো খালের আড়ালে কংক্রিটের তৈরি ৮০টিরও বেশি মোবাইল লঞ্চ প্যাড বা উৎক্ষেপণকেন্দ্র শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো মূলত সড়কপথে চলাচলকারী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য তৈরি। এ ছাড়া পুরো মরুভূমিজুড়ে মাটির নিচে ফাইবার অপটিক কেবল বিছানো হয়েছে। শক্তিশালী স্যাটেলাইট ডিশ ও বিশাল টাওয়ারের মাধ্যমে গড়ে তোলা হয়েছে একটি নিটোল ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা।

চীনের আনুষ্ঠানিক নীতি হলো তারা কখনো প্রথমে পারমাণবিক হামলা চালাবে না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক আধুনিকায়ন মূলত তাইওয়ান সংকটকে সামনে রেখে করা হচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং সতর্ক করে বলেছিলেন, তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের ভুল বোঝাবুঝি পরিস্থিতিকে ‘বিপজ্জনক জায়গায়’ নিয়ে যেতে পারে। পশ্চিমা কূটনীতিকদের ধারণা, তাইওয়ান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ থামাতে চীন এই পারমাণবিক শক্তিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ইতিমধ্যে চীনের পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো শহরে আঘাত হানতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, চীন বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে দ্রুতগতিতে তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে চীনের কাছে অন্তত এক হাজার পারমাণবিক ওয়ারহেড থাকবে। চীন তার ‘হুয়োইয়ান-১’ উপগ্রহব্যবস্থার মাধ্যমে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যে তা শনাক্ত করতে পারে। ফলে মূল হামলা আঘাত হানার আগেই চীন পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে দিতে সক্ষম।

যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়া সাধারণত তাদের পারমাণবিক সুরক্ষার জন্য কেবল সাইলোর ভৌগোলিক দূরত্ব ও কংক্রিটের মজবুত কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। কিন্তু চীন যেভাবে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং বিশাল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের এক মহাপরিকল্পনা মরুভূমিতে বাস্তবায়ন করছে, তা সম্পূর্ণ নজিরবিহীন।

ফেডারেশন অব আমেরিকান সায়েন্টিস্টসের পারমাণবিক তথ্য প্রকল্পের পরিচালক হ্যানস ক্রিস্টেনসেন বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন,'এত প্রতিকূল পরিবেশে এত বড় অবকাঠামো আমি এর আগে কখনো দেখিনি। এটি সত্যিই চীনের এক অসাধারণ প্রচেষ্টা।'

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

ভারতে বিষাক্ত মদপানে ১৪ জনের মৃত্যু

ভারতে বিষাক্ত মদপানে ১৪ জনের মৃত্যু

বার্ধক্য ঠেকানোর প্রকল্পে পুতিনের ২৬ বিলিয়ন ডলার

বার্ধক্য ঠেকানোর প্রকল্পে পুতিনের ২৬ বিলিয়ন ডলার

‘জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি’

‘জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি’

চীনের একক আধিপত্যের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

চীনের একক আধিপত্যের বিষয়ে সতর্কবার্তা দিলো যুক্তরাষ্ট্র

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App