গাজার ৭০ শতাংশ দখল নিতে সেনাবাহিনীকে নেতানিয়াহুর নির্দেশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি- সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও বোমাবর্ষণ চলছেই। প্রতিদিনই গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক আবাসিক ভবন ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র। এর মধ্যেই শুক্রবার (২৯ মে) রাতে গাজা সিটির একটি শরণার্থী শিবিরে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এই আগ্রাসনের মাঝেই এবার গাজার ৭০ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে আয়োজিত সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, গাজার নিয়ন্ত্রণ ধাপে ধাপে ৭০ শতাংশে উন্নীত করতে সামরিক বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
মার্কিন মধ্যস্থতায় হওয়া পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা না করেই ফিলিস্তিনিদের ওপর এই আগ্রাসন আরও বাড়ানোর বার্তা দিলেন তিনি। সম্মেলনে নেতানিয়াহু দাবি করেন, প্রথমে ৫০ শতাংশ এবং এখন ৬০ শতাংশ এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার নির্দেশ হলো সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং লক্ষ্য হলো গাজার ৭০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
এদিকে গাজায় ফিলিস্তিনি নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর ব্যাপক আকারে যৌন সহিংসতা চালানোর অভিযোগে ইসরায়েলকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের নারী ও শিশুবিষয়ক বিশেষ দূত রিম আলসালেম এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত এই অপরাধের জন্য ইসরায়েলকে আরও আগেই কালো তালিকাভুক্ত করা উচিত ছিল।
এই সিদ্ধান্তের পর চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তেল আবিব। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের এই পদক্ষেপের পর সংস্থাটির সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলি দূত। তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দাবি, ইসরায়েলি ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বন্দি ফিলিস্তিনিদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন নিয়মিত ঘটনা, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
শুধু জাতিসংঘই নয়, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতনের দায়ে ৪টি সংস্থা ও ৩ ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় চরমপন্থী ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী এবং তাদের অর্থায়ন ও সমর্থনকারী সংগঠনগুলো রয়েছে।
