হারের পর ‘বিচার’ পেতে আদালতে যেতে চান মমতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নেননি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলাফল ঘোষণার পরদিনই তিনি অভিযোগ করেন, গণনাকেন্দ্রে ‘লুটপাটের’ মাধ্যমে অন্তত ১৫০টি আসনে তৃণমূলকে ‘জোর করে’ হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই কারচুপির বিরুদ্ধে দল মামলার প্রস্তুতি শুরু করলেও বড় বিপাকে পড়েছেন দলের শীর্ষ নেতারা। কারণ, পরাজিত প্রার্থীরা নিজেই আইনি লড়াইয়ে জড়াতে চাইছেন না।
গত রোববার (২৪ মে) ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তার দল আইনি লড়াইয়ে যাবে। সেই অনুযায়ী মামলার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তৃণমূলের আইনজীবী ও সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তৃণমূলের বিড়ম্বনা বাড়িয়ে দিচ্ছেন খোদ পরাজিত প্রার্থীরাই। নির্বাচনী পিটিশন দায়ের করার প্রক্রিয়ার মধ্যে তারা জড়াতেই চাইছেন না। দল ঘুরে দাঁড়াতে চাইলেও অনেক প্রার্থীই কার্যত ময়দান থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন।
তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে, সব দিক বিবেচনা করে এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি আসন নিয়ে নির্বাচনী পিটিশন দাখিল করার মতো প্রমাণ জোগাড় করা গেছে। তবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থীরা নিজে বাদী হতে রাজি না হওয়ায় ফাঁক থেকে যাচ্ছে। যেমন শ্রীরামপুরের সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেছেন, জাঙ্গিপাড়ার পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী তথা সাবেক পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে পিটিশন দায়ের করতে বলা হলেও তিনি রাজি হননি।
স্নেহাশিসের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমার জুনিয়র স্নেহাশিসকে ফোন করেছিলেন। কিন্তু ও রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথা বলেছে। ২০১১ সালের আগে তো জাঙ্গিপাড়ায় কেউ ঢুকতে পারত না। আমি ২০০৯ সালে জেতার পর ২০১১ সালে ও জিতল। ১৫ বছর ধরে ক্ষমতা ভোগ করল, আর এখন পালিয়ে যাচ্ছে!’
লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ আরও বলেন, ‘যারা বেশি ভোগ করেছে, তারাই এখন সরে যাচ্ছে।’ অবশ্য এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে স্নেহাশিসকে ফোন ও বার্তা পাঠানো হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে কল্যাণের ছেলে শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবার উত্তরপাড়া থেকে তৃণমূলের টিকিটে লড়ে পরাজিত হলেও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার বার্তা দিচ্ছেন। তিনি তার বাবাকে মামলার প্রস্তুতিতে সাহায্য করছেন। গত ৪ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে তিনি নিয়মিত মমতার বাড়িতে যাচ্ছেন এবং জেলা থেকে আসা রিপোর্টগুলো একত্রিত করছেন।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দল মামলার সব খরচ ও আইনি সহায়তা দেবে। তবে নিয়ম অনুযায়ী মামলা করার মূল দায়িত্ব প্রার্থীদেরই। প্রার্থীরাই যদি পিঠটান দেন, তবে দলের উদ্দেশ্য সফল হবে না।
ভোট গণনা নিয়ে তৃণমূলের অভিযোগের শেষ নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দাবি করেছেন, বহু জায়গায় ইভিএমের সিলে থাকা ১৭-সি ফর্মের নম্বর মেলেনি। এছাড়া ভোটযন্ত্রের ব্যাটারি চার্জ বেশি থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল। কিন্তু দলের হাইকম্যান্ড যখন এসব নিয়ে কোমর বেঁধে নামছে, তখন মাঠপর্যায়ের প্রার্থীদের এই ‘নিষ্ক্রিয়তা’ দলকে নতুন করে সংকটে ফেলল।
