বেলারুশে পারমাণবিক গোলাবারুদ পাঠাল রাশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৬:৩৯ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
ইউক্রেন যুদ্ধ ও বাল্টিক অঞ্চলে ড্রোন তৎপরতা নিয়ে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির মাঝেই বেলারুশের সামরিক ঘাঁটিতে পারমাণবিক গোলাবারুদ পাঠিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনীর সক্ষমতাও প্রদর্শন করেছে মস্কো। বাল্টিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে রাশিয়ার এই পদক্ষেপ উদ্বেগ তৈরি করেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম পারমাণবিক মহড়া। এই মহড়ায় দেশটির সামরিক বাহিনীর ৬৪ হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। যেকোনো আগ্রাসনের মুখে পারমাণবিক বাহিনীর প্রস্তুতি ও ব্যবহার ঝালিয়ে নিতেই এই আয়োজন।
মহড়ায় রাশিয়া বোরি-শ্রেণির পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাবমেরিন, ইল-৩৮ সাবমেরিন-বিধ্বংসী বিমান, কিঞ্জাল হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র সজ্জিত মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান এবং আরএস-২৪ ইয়ার্স আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শন করেছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমাণবিক বাহিনীর মহড়ার অংশ হিসেবে বেলারুশ প্রজাতন্ত্রে মোতায়েন করা ক্ষেপণাস্ত্র ব্রিগেডের মাঠপর্যায়ের সংরক্ষণাগারগুলোতে পারমাণবিক গোলাবারুদ পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বেলারুশের একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট তাদের ইস্কান্দার-এম কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার জন্য বিশেষ গোলাবারুদ গ্রহণ এবং সেগুলো উৎক্ষেপণ যানে লোড করার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।
এই যৌথ মহড়ায় রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনী, উত্তর ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর, দূরপাল্লার বিমান বাহিনী এবং লেনিনগ্রাদ ও সেন্ট্রাল সামরিক অঞ্চলের ইউনিটগুলো অংশ নিচ্ছে।
মস্কোর এই ধরনের পারমাণবিক মহড়ায় সাধারণত নকল ওয়ারহেড (যুদ্ধাস্ত্র) ব্যবহার করা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা ভিডিওতে পারমাণবিক সাবমেরিন, বিমান ও যুদ্ধজাহাজের মহড়ার চিত্র দেখা গেছে।
রাশিয়া ও বেলারুশজুড়ে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী এই মহড়া এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন মস্কো দাবি করছে—ইউক্রেন ইস্যুতে পশ্চিমাদের সঙ্গে এক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে ক্রেমলিন।
পুরো যুদ্ধজুড়েই প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিয়েভকে সমর্থনের ক্ষেত্রে পশ্চিমারা যাতে সীমা লঙ্ঘন না করে, সেই সতর্কবার্তা হিসেবে রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তির কথা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন। তবে ইউক্রেন ও কিছু পশ্চিমা নেতা ক্রেমলিনের এই ধরনের পদক্ষেপকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ‘অস্ত্রের ঝনঝনানি’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
