কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির প্রথম মুখ্যমন্ত্রী?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মে ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
ছবি- সংগৃহীত
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে প্রথমবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নির্বাচনী প্রচারে এসে আগেই তিনি এ ঘোষণা দিয়েছিলেন।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। ভোটের আগে কাউকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী ঘোষণা করেনি বিজেপি। রাজস্থান, দিল্লি, ওড়িশা বা মধ্যপ্রদেশে জয়ের পর নতুন মুখকে দায়িত্ব দিয়েছে দল। পশ্চিমবঙ্গেও একই পথে হাঁটতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
সম্ভাব্য তালিকায় আছেন কয়েকজন। দেখে নেওয়া যাক তাদের পক্ষে বা বিপক্ষে নাম ও যুক্তি।
শুভেন্দু অধিকারী
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ছিলেন তিনি। এবার নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই আসনেই জিতেছেন। ভবানীপুরে হারিয়েছেন মমতা ব্যানার্জীকে। ২০২১ সালে দল হারলেও মাঠ ছাড়েননি। তৃণমূলের সঙ্গে টক্কর দিয়েছেন। তাই তিনিই এগিয়ে। তবে তিনি বিজেপিতে এসেছেন সাড়ে পাঁচ বছর আগে। আগে তৃণমূলের শীর্ষ নেতা ছিলেন। দলের পুরোনো অংশে গ্রহণযোগ্যতা কম। আরএসএসের সমর্থনও অনিশ্চিত।
স্বপন দাশগুপ্ত
বিলেতে পড়া ইতিহাসবিদ ও সাবেক সাংবাদিক। রাজ্যসভার সাবেক সদস্য। পদ্মভূষণ পেয়েছেন। এবার রাসবিহারী আসনে তৃণমূলের দেবাশিস কুমারকে হারিয়েছেন। কলকাতা ও শহরতলিতে বিজেপির আসন বাড়াতে তার ভূমিকা থাকতে পারে। তবে মাঠের রাজনীতি বা সংগঠনের অভিজ্ঞতা কম।
শমীক ভট্টাচার্য
বিজেপির রাজ্য সভাপতি। ৫০ বছরের বেশি সময় আরএসএসে যুক্ত। কোনো গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণ উপনির্বাচনে জিতে রাজ্যে বিজেপির প্রথম এমএলএ হন। সুবক্তা হলেও জননেতা হিসেবে পরিচিতি কম। সাংগঠনিক দক্ষতাও পরীক্ষিত নয়। তবে সমঝোতার প্রার্থী হিসেবে তার নাম আসতে পারে।
অগ্নিমিত্রা পাল
পেশায় ফ্যাশন ডিজাইনার। সাত বছর আগে বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালে আসানসোল থেকে প্রথম এমএলএ হন। এবারও জিতেছেন। মমতা ব্যানার্জীর ১৫ বছরের শাসনের পর নারী মুখ্যমন্ত্রী চাইতে পারে দল। দিল্লিতে রেখা গুপ্তাকে বেছে নিয়েছিল বিজেপি। তবে রাজনীতিতে অনভিজ্ঞ কাউকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
স্মৃতি ইরানি
সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও দলের মুখপাত্র। ঝরঝরে বাংলা বলেন। প্রচারে বলেছেন, ‘আমি বাংলার বাগচী বাড়ির মেয়ে, ইলিশ মাছের কাঁটাও বেছে খেতে জানি।’ ২০১৯ সালে আমেঠিতে রাহুল গান্ধীকে হারান। ২০১৪ সালে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন। ২০২৪ সালে আমেঠিতে হেরে কিছুটা কোণঠাসা। তাকে পুনর্বাসন দিতে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন কেউ কেউ।
বিজেপি শেষ পর্যন্ত কাকে বেছে নেয়, সেটাই এখন দেখার।
সূত্র : বিবিসি বাংলা
