ইরানের ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
‘ছায়া ব্যাংকিং’ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইরানের ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ। যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অচলাবস্থার মধ্যে নতুন করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা ব্যক্তি–প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অবৈধ তহবিল স্থানাস্তর হয়েছে। আর এসব অর্থ ইরানের ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে কয়েক হাজার কোটি ডলারের অবৈধ অর্থ স্থানান্তর হয়েছে। এই অর্থ ইরানের শাসকগোষ্ঠীর চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মী, আঞ্চলিক মিত্র এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সরাসরি হুমকি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি এই নেটওয়ার্ককে সহায়তা করে বা এর সঙ্গে লেনদেনে জড়ায়, তবে তারা কঠোর পরিণতির মুখে পড়বে।
ওয়াশিংটন মনে করছে, এই অর্থপ্রবাহ বন্ধ করার মাধ্যমে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রমকে দুর্বল করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের এই উত্তাল সময়ে ইরানের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ডে আঘাত করাকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
এই নতুন নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে কার্যকর করা হলো যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। একদিকে তেহরান যখন যুদ্ধের অবসানে বিভিন্ন প্রস্তাব দিচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে ইরানকে নমনীয় হতে বাধ্য করতেই এই ধরনের অর্থনৈতিক অবরোধের পথ বেছে নিয়েছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। তবে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানানো হয়েছে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কোনো নতুন বিষয় নয় এবং তারা তাদের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক নীতি থেকে বিচ্যুত হবে না।
সামগ্রিকভাবে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ ও পাল্টাপাল্টি জাহাজ জব্দের ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক স্তরেও শুরু হয়েছে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে দিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত তেহরান তাদের কর্মকাণ্ডের আমূল পরিবর্তন না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধরনের অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে। এখন দেখার বিষয় হলো, ১ মে’র সময়সীমার আগে এই নতুন নিষেধাজ্ঞা দুই দেশের সম্ভাব্য সমঝোতার পথে কতটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
সূত্র: আলজাজিরা
