ইরানের সঙ্গে চুক্তি হলে সই করতে পাকিস্তান যেতে পারেন ট্রাম্প
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৬ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি- সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের বৈরিতা কাটিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থান করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে তা স্বাক্ষরের জন্য তিনি পাকিস্তান সফরের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছেন। বার্তাসংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, তেহরান তাদের কাছে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে। লাস ভেগাস সফরে যাওয়ার আগে তিনি বলেন,'আমরা ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি পর্যায়ে আছি। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। তারা এখন এই বিষয়ে পুরোপুরি একমত হয়েছে।'
ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, চুক্তির প্রধান শর্ত হিসেবে ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত যাকে ট্রাম্প ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বলে অভিহিত করেছেন তা হস্তান্তর করতে রাজি হয়েছে। এর ফলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। তবে সম্ভাব্য এই চুক্তির অন্যান্য খুঁটিনাটি বা বিস্তারিত কোনো তথ্য তিনি এখনই প্রকাশ করেননি।
এই শান্তি প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ করতে সহায়তা করায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। চুক্তি সইয়ের জন্য পাকিস্তানে যাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেন,'হ্যাঁ, আমি যেতে পারি। যদি চুক্তিটি ইসলামাবাদে সই হয়, তবে আমি সেখানে যাওয়ার বিষয়টি ভেবে দেখব।'
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফরটি প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও হোয়াইট হাউস বর্তমানে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার পরিকল্পনা করছে। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয় পক্ষই পরবর্তী আলোচনার ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তানকে প্রাধান্য দিচ্ছে।
