ইরানে হামলা চলবে কতদিন, জানালেন ট্রাম্প
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
ফাইল ছবি
ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সফল করতে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন।
সোমবার ব্রিটিশ সংবাদপত্র দৈনিক মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।
ট্রাম্প সাক্ষাৎকারে বলেন, এটি শুরু থেকেই একটি চার সপ্তাহের প্রক্রিয়া হিসেবে ধরা হয়েছে। আমরা হিসেব করে দেখেছি যে এটি চার সপ্তাহ বা তার কাছাকাছি সময় নেবে।
অভিযানের ব্যাপ্তি নিয়ে তিনি আরও বলেন, আমাদের আক্রমণ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, ইরান একটি বড় দেশ। তাই এটি সম্পন্ন করতে চার সপ্তাহ—বা তার কম সময় লাগবে।
আরো পড়ুন: খামেনি হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে পাকিস্তান ও ইরাকে ২২ জন নিহত
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি এখনও ইরানিদের সাথে আলোচনার পথ খোলা রেখেছেন। তবে সেই আলোচনা ‘শিগগিরই’ হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলেননি।
ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না। তারা কথা বলতে চায়, কিন্তু আমি বলেছি— ‘তোমাদের গত সপ্তাহে কথা বলা উচিত ছিল, এই সপ্তাহে নয়।’
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে চলমান সামরিক অভিযানে আরও মার্কিন সেনার প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না। রোববার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে পূর্ণ শক্তিতে অভিযান চলছে এবং আমাদের লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকবে। আমাদের লক্ষ্যগুলো অত্যন্ত সুদৃঢ়।’
তবে সেই লক্ষ্যগুলো আসলে কী, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলেননি।
এদিকে রোববার (১ মার্চ) সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে দ্য আটলান্টিককে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নেতারা তার সঙ্গে আলোচনা করতে চান এবং তিনিও আলোচনা করতে রাজি হয়েছেন।
দ্য আটলান্টিকের প্রতিবেদন মতে, ট্রাম্প মার-এ-লাগো রিসোর্ট থেকে সকাল ৯:৩০-এর দিকে ফোনে বলেন, ‘তারা কথা বলতে চায়, এবং আমি কথা বলার জন্য রাজি হয়েছি, তাই আমি তাদের সঙ্গে কথা বলব। তারা আগে করতে পারত। যা করা খুবই বাস্তবসম্মত ও সহজ ছিল, তা তারা আগে করতে পারত। তারা খুব দেরি করেছে।’
আলোচনা আজ হবে নাকি আগামীকাল এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তা বলতে পারব না।’ তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে আলোচনায় যুক্ত অনেক ইরানি এখন আর জীবিত নন। তার কথায়, ‘যারা আমরা আগে কাজ করছিলাম, তাদের বেশির ভাগ চলে গেছে। এটি একটি বড়—একটি বড় আঘাত ছিল।’
হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা রোববার (১ মার্চ) আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রস্তুত আছেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প আজ বিভিন্ন গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারেও একই কথা বলেছেন যে, খামেনি-পরবর্তী ইরানি নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
এদিকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল বুসাইদিকে জানিয়েছেন যে, তেহরান ‘উত্তেজনা প্রশমনে যেকোনো প্রচেষ্টার’ জন্য প্রস্তুত।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক পারমাণবিক আলোচনায় ওমান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল এবং আল বুসাইদি গত শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, আরাঘচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলা ‘পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা ও আতঙ্ক বৃদ্ধির কারণ’।
পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হামলা শুরু করে ইসরাইল। সঙ্গে যোগ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় তেহরানসহ দেশের বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ ঘটে।
হামলার পরপরই ইরান পাল্টা জবাব দেয়। ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনী কাজ করে এমন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করে। এতে ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরবে বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়।
গত দুইদিন ধরে তীব্র লড়াই চলছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। রোববার সকাল পর্যন্ত ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি এবং রাষ্ট্রীয় সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়, চলমান হামলায় অন্তত ২০১ জন নিহত হয়েছেন এবং কমপক্ষে ৭৪৭ জন আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পাশাপাশি কয়েকজন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা রয়েছেন। রোববার সকালে ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ মেজর জেনারেল আবদুলরহিম মুসাভি এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন।
মুসাভি জুন ১৩ তারিখে এই পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তিনি মেজর জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরির স্থানে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, যিনি গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধে নিহত হন। ইরানের পুলিশ গোয়েন্দা কেন্দ্রের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম রেজা রেজাইয়ানও এই হামলায় শহীদ হয়েছেন।
এর আগে ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানায়, সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব অ্যাডমিরাল আলি শামখানি এবং ইসলামিক রেভোলিউশন গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপৌরও শনিবারের যৌথ হামলায় শহীদ হয়েছেন।
