ভাত না রুটি, কী খাওয়া উচিত?
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
ভাত না রুটি কোনটি স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, রুটিতে কার্বোহাইড্রেট কম থাকায় এটি ভাতের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সরল নয় বরং কীভাবে এবং কী ধরনের খাবার খাওয়া হচ্ছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
খাবারের থালায় ভাত হোক বা রুটি, দুটিই মূলত কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ। তবে মুম্বাইভিত্তিক ডায়েটিশিয়ান নাজনীন হুসেন জানান, মোটা আটা বা আঁশসমৃদ্ধ রুটি খাওয়া ভালো হলেও ময়দার রুটি খেলে তা ভাতের মতোই শরীরে দ্রুত শর্করা বাড়ায়। একইভাবে বেশি পালিশ করা সাদা চালের ভাতের বদলে কম পালিশ করা বা ব্রাউন রাইস তুলনামূলক বেশি স্বাস্থ্যকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাত বা রুটির সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ডাল, সবজি বা দইয়ের সঙ্গে ভাত খেলে তা শরীরের জন্য বেশি উপকারী হয়। এতে ভাতের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কমে এবং শর্করা ধীরে ধীরে শরীরে প্রবেশ করে।
দিল্লির গঙ্গারাম হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. এম. ওয়ালি বলেন, আমরা অনেক সময় ভাত বা রুটি বেশি খাই, কিন্তু সবজি কম খাই, এটাই বড় সমস্যা। সুষম খাদ্য গ্রহণই আসল বিষয়।
অন্যদিকে, শারীরিক পরিশ্রমের ওপরও নির্ভর করে কোনটি বেশি উপযোগী হবে। যারা বেশি পরিশ্রম করেন, তাদের জন্য ভাত ভালো শক্তির উৎস হতে পারে। আর যারা কম সক্রিয় বা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য আঁশসমৃদ্ধ রুটি ভালো বিকল্প।
আরো পড়ুন : দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে যে ৫ খাবার খাবেন
এইমসের ডায়েটিশিয়ান মালা মনরাল জানান, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় মোট ক্যালোরির প্রায় ৬০ শতাংশ কার্বোহাইড্রেট, ২০ শতাংশ প্রোটিন এবং ২০ শতাংশ চর্বি থাকা উচিত। সেই হিসেবে ভাত বা রুটি দুটিই সুষম খাদ্যের অংশ হতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সাধারণত ভাত কম খেয়ে বেশি আঁশযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ফ্রিজে রাখা ভাতে ‘রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ’ তৈরি হয়, যা আঁশের মতো কাজ করে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে দেয় না।
বিশেষজ্ঞরা আরো বলেন, খাদ্যাভ্যাস অনেকাংশে অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। যে অঞ্চলে যা বেশি উৎপাদিত হয়, মানুষ সাধারণত সেটির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে এবং তা হজম করতেও সহজ হয়।
সব মিলিয়ে, ভাত বা রুটি কোনটি ভালো তা নির্ভর করে ব্যক্তির জীবনযাপন, স্বাস্থ্য ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর। তাই একটিকে সম্পূর্ণ ভালো বা খারাপ বলা যায় না বরং সুষম ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
