ডুয়েটে শিক্ষার্থীদের দু‘পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৩:১০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরে অবস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চলমান আন্দোলন সংঘর্ষে রূপ নিয়েছে। রোববার (১৭ মে) এ সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় উপাচার্য নিয়োগের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সকাল থেকেই ডুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালকে সরকার ডুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেয়। এই নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির পর থেকেই শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনে নামেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকনেতাও অভ্যন্তরীণ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকে উপাচার্য নিয়োগের দাবি জানান।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই আন্দোলনের সূচনা হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ সকাল ৮টা থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে যোগদান করতে পারেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আন্দোলনকারীরা প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
একপর্যায়ে ভিসির পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে দুই পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ডুয়েট একটি বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখানকার প্রশাসনিক ও একাডেমিক বাস্তবতা আলাদা। তাই অভ্যন্তরীণ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া উচিত ছিল বলে তারা দাবি করেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডুয়েট ক্যাম্পাস থেকে আহত অবস্থায় অন্তত ১৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, ভিসি নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই উত্তেজনা চলছিল, যা আজ সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।
